পেটের যেসব উপসর্গে অবহেলা নয়

0
54
পেটের যেসব উপসর্গে অবহেলা নয়

খবর৭১ঃ পেটের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন অনেকে। বেশিরভাগ সময়ই সাধারণ সমস্যা হিসেবে এটিকে এড়িয়ে চলা হয়। তবে এই সাধারণ সমস্যার মধ্যেও বড় কিছু হতে পারে। এজন্য সাবধানতা অত্যন্ত জরুরি। পেটের সমস্যাগুলোর মধ্যে একটা হলো ‘আলসারেটিভ কোলাইটিস’। এই রোগের সঙ্গে ক্রোনিক ডিজিজের অনেকটা মিল আছে। এই দুই অসুখকে একসঙ্গে ‘ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ’ বলা হয়। সাধারণত সব বয়সের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা দেয়।

আমাদের বৃহদন্ত্রকে কোলন বলা হয়। আর এই কোলনের ভেতরে যদি কোনো ক্ষতি হয়, যেমন জ্বালা, ফুলে যাওয়া, ঘা হওয়া, তখন তাকে বলে কোলাইটিস। আলসারেটিভ কোলাইটিস হচ্ছে পেটের প্রদাহজনিত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। এর ফলে বৃহদন্ত্র ও কোলনে প্রদাহ ও ঘা হয়, যা রোগীর পেটে মর্মান্তিক ব্যথার সৃষ্টি করে। ছোট ছোট আলসার বা ঘা পুরো কোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আলসারগুলো একে অন্যের সঙ্গে আটকে থাকে। এই রোগ জিনগত কারণে বা পরিবেশগত কারণে হতে পারে।

কী কী উপসর্গ দেখা যায়?

বারবার পেট খারাপ হওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত পড়া, পেটে ব্যথা, মলদ্বারের ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, খেতে ইচ্ছে না হওয়া। যান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া এই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আর কোনো বিকল্প নেই। সিগময়েডোস্কপি, কোলোনোস্কপি, বেরিয়াম ইনেমা, আলট্রাসনোগ্রাফি এগুলোর মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা হয়। এছাড়া, রক্তস্বল্পতা এবং সংক্রমণের কোনো লক্ষণ জানার জন্য রক্ত পরীক্ষাও করা হয়। আলসারেটিভ কোলাইটিসে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীদের মধ্যে এই রকম হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ দেখা যায়।

আলসারেটিভ কোলাইটিসের প্রকার

আলসারেটিভ প্রকটাইটিস: মলদ্বারের চারপাশে প্রদাহ সীমাবদ্ধ এবং মলদ্বার রক্তপাত রোগের একমাত্র লক্ষণ হতে পারে।

প্রকটসিগময়ে ডাইটিস: মলদ্বারে এবং সিগময়েড কোলন (পাকস্থলীর নীচের দিকের অংশে) প্রদাহ হয়। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে রক্তাক্ত ডায়রিয়া, পেটের বাধা এবং ব্যথা এবং মলত্যাগের তীব্র তাগিদ থাকা সত্ত্বেও মলত্যাগের অক্ষমতা (টেনেসামাস)।

বাম দিকের কোলাইটিস: ফোলা সিগময়েড কোলনের নীচের দিক থেকে মলদ্বার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। লক্ষণ ও লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে রক্তাক্ত ডায়রিয়া, পেটের বাড়া এবং বাম পাশে ব্যথা এবং মলত্যাগ থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা।

প্যানকোলাইটিস: এই ধরণের আলসারেটিভ কোলাইটিস প্রায়শই পুরো সিগময়েড কোলনকে প্রভাবিত করে, যা মারাত্মক রক্তাক্ত ডায়রিয়ার কারণ হয়ে থাকে, যা পেটের পেট এবং ব্যথা, ক্লান্তি এবং ওজন হ্রাসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা

সাধারণত কোলাইটিস যদি ইনফেকশন থেকে হয়, তাহলে কিছুদিন অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ঠিক হয়ে যায়। কেউ যদি সুগারের পেশেন্ট হয়, তাহলে এই রোগে তাকে ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক নিষেধ মেনে চলতে হয়। তবে, আলসারেটিভ কোলাইটিস যদি তীব্র আকার ধারণ করে, তাহলে এর চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত স্টেরয়েড এবং সালফাস্যালাজিন দেওয়া হয়। কমমাত্রায় এই স্টেরয়েড দেওয়া হয়। তবে কারোর ক্ষেত্রে যদি এগুলোও কাজ না করে, তখন এই রোগ সারানোর শেষ অস্ত্র হিসেবে অপারেশনকে বেছে নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোলন বা পুরো বৃহদন্ত্রই কেটে বাদ দেওয়া হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এ ক্ষেত্রে আরও খারাপ কিছু হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

পুরোটা ঠিক করা না গেলেও কিছু কিছু জিনিস মেনে চললে এই রোগ অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আলসারেটিভ কোলাইটিসের রোগীদের জন্য হলুদ অনেক কার্যকর। বিশেষ করে হলুদের কারকিউমিন থেরাপির মতো কাজ করে। বেশির ভাগ ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে আলসারেটিভ কোলাইটিসের রোগীদের জন্য উপকার হতে পারে। এর ফলে নিয়মিত শরীর থেকে বর্জ্যরে সঙ্গে বিষাক্ত ও রাসায়নিক উপাদানও বেরিয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ মানুষের আলসারেটিভ কোলাইটিসের সমস্যাকে বৃদ্ধি করে স্ট্রেস। তাই স্ট্রেস কমানো উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here