যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসবে না

0
51
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসবে না

খবর৭১ঃ যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আহামরি কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করছেন সাবেক কূটনীতিকরা। তবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা ‘হলেও হতে পারে’ বলে মনে করছেন তাদের কেউ কেউ। আর বাংলাদেশে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

ভোটের ফল নিয়ে নানা নাটকীয়তা আর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে আগামী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউজের কর্ণধার হতে চলেছেন জো বাইডেনের হাতে সেটা অনেকটাই স্পষ্ট। সবকিছু ঠিক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২০ জানুয়ারিতে বাইডেন ও তার রানিংমেট কমলা হ্যারিসের অভিষেক হতে যাচ্ছে।

বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশে^র অপরাপর দেশগুলি তাদের সম্পর্কের বিষয়আশয় নিয়ে এরইমধ্যে নানা হিসেবনিকেশ কষছে। বিশ্বের অন্যতম এই পরাশক্তির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নানা প্রত্যাশা নিয়ে এরইমধ্যে বিশ্লেকরাও কথা বলা শুরু করেছেন। অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প পরবর্তী মার্কিন কূটনীতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসবে না। আবার সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বাইডেন প্রশাসন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অনেক পরিবর্তন আনবে। সেক্ষেত্রে ঢাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কিছু সুফল পাবে।

বাইডেন প্রশাসনের কাছে আগামী দিনগুলোতে ঢাকার বেশ কিছু প্রত্যাশা থাকতে পারে। যেমন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি, তৈরি পোশাকে জিএসপি সুবিধা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে একনিষ্ঠ সমর্থনসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দেশটির অভিবাস প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ত্বরান্বিত করা।

গত ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ শেষে চারদিন ধরে গণনার পর পেনসিলভেনিয়ায় রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ভোটের ব্যবধান বেড়ে গেলে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার পথ সুগম হয়ে আসে বাইডেনের। নানা নাটকীয়তার পর শনিবার ডিসিশন ডেস্ক এই প্রবীণ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে যুক্তরাষ্টের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট বলে জানায়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে ইলেকটোরাল ভোটে এগিয়ে থাকা বাইডেনকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানরা শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত করছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ‘সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রেখে জো বাইডেনকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় কোনো ধরণের পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না। তবে বহুপক্ষীয় সম্পর্কের কারণে বাইডেন প্রশাসন থেকে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পাবে। এটা প্রত্যক্ষভাবে না হয়ে পরোক্ষভাবেই হবে বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে বাইডেন জলবায়ু চুক্তিতে ফেরত আসবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত আসা মানে সেখানে কিছু ফান্ড পাওয়া যাবে, সেটাতে বাংলাদেশও কিছু পাবে। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে নিশ্চিত, এতেও বাংলাদেশ ফান্ডিংসহ করোনার টিকার বিষয়ে সুফল পাবে। এটা পৃথিবীর অনেক দেশ পাবে, সেটা আমরাও পাব।’

ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকা-ওয়াশিংটন থেকে খুব একটা সুবিধা পাবে না উল্লেখ করে সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আমি আশা করি না। কারণ জিএসপি সুবিধাতো ওবামার আমলে বন্ধ হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি না। এটা অনেক বেশি জটিল। এখানে মেজর হলো চীন। যুক্তরাষ্ট্র একা কিছু করতে পারবে না। তবে বাংলাদেশের কাজ হবে মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আদায় করে নেওয়া।

গত চার বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে ঢাকা-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো কিংবা খারাপ ছিল না। তবে ট্রাম্পের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আলোচনা এবং বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছিল।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই আসুক বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। সামনের দিনগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ খুব ভালোভাবে কাজ করবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হতে পারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান বলেন, ‘বাইডেন আসুক বা রিপাবলিকান কেউ আসুক এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে খুব বড় ধরণের কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আমার মনে হয়না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের কিছু প্রত্যাশা আছে। আমরা চাই, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে জিএসপি সুবিধাটা নিশ্চিত করা হোক। আমরা এখন শতকরা যে ১৫ ভাগ ভ্যাট দিচ্ছি সেটা মওকুফ করা হোক। এটা বাইডেন প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের বড় প্রত্যাশা।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই বিশ্লেষক বলেন, ‘আমরা চাই, যুক্তরাজ্য বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের এখানে বড় বিনিয়োগ করুক। আমরা তাদের বিনিয়োগের অংশীদার হতে চাই। তাছাড়া বাংলাদেশের জন্য নিয়মমাফিক অভিবাসন প্রক্রিয়াটাও তারা ত্বরান্বিত করুক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক পদক্ষেপ নিক, যেন রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত যেতে পারে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ পয়োগ করা এবং একটা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করুক।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here