সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত

0
40
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় দুটি স্থান চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য আজ রোববার থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় ৮ মাস বন্ধ ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ দুটি স্থান।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকরা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গায় ওই দিন থেকে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাশ। এদিকে সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালিব হোসেন বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য বন বিভাগের নিয়ন্ত্রাধীন সকল দর্শনীয় স্থান রোববার থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করবেন।

১৯১২ সালে প্রায় ১০ হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমি নিয়ে গঠিত রঘুনন্দন হিলস রিজার্ভই কালের পরিক্রমায় আজকের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। যদিও জাতীয় উদ্যানের ইতিহাস বেশিদিনের নয়। ২০০৫ সালে ৬০০ একর জমিতে জাতীয় উদ্যান করা হয়। এই উদ্যানের মধ্যে রয়েছে ২৪টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস, রয়েছে বন বিভাগের লোকজন। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে প্রজাপতি বাগান, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার ট্রেইল, খাবার হোটেল, রেস্ট হাউস, মসজিদ, রাত যাপনের জন্য স্টুডেন্ট ডরমিটরি। এখানে দুই শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, ডুমুর, জাম, জারুল, আওয়াল, আকাশমনি, বাঁশ, বেত উল্লেখযোগ্য।

১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তুর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ছয় প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি। রয়েছে লজ্জবতী বানর, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর, মেছো বাঘ, মায়া হরিণের বিচরণ। সরীসৃপের মধ্যে রয়েছে কয়েক প্রজাতির সাপ। কাও, ধনেশ, বন মোরগ, লাল মাথার ট্রগর, কাঠঠোকরা, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলদে পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাসস্থল এই উদ্যান।

অপরদিকে রেমা-কালেঙ্গা অভায়রন্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন। ২০০৫ সাল থেকে আমেরিকার অর্থায়নে বন বিভাগের সঙ্গে বিভিন্ন এনজিও ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে রেমা-কালেঙ্গাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলে। এটি দেশের দ্বিতীয় চিরহরিৎ বন। এখানকার বণ্যপ্রাণীর মধ্যে বিরল এবং মহাবিপন্ন প্রাণী রয়েছে। রয়েছে ৪০ থেকে ৫০টি শকুনের পরিবার। যা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের একমাত্র আবাসস্থল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here