ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও কঠোর

0
49
ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও কঠোর

খবর৭১ঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে কোনো অপকর্মই রাজনৈতিক রং দিয়ে আড়াল করতে চায় না সরকার। নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান সব সময়ই স্পষ্ট ও কঠোর।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারের পদত্যাগ নয়, আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির টপ টু বটম পদত্যাগ করা উচিত। বিএনপি দেশে-বিদেশে যেখানেই সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করুক না কেন, সে সম্পর্কে সরকার সজাগ।

আজ বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।

সাম্প্রতিক নারীর প্রতি অবমাননা ও সহিংসতার বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নোয়াখালীর ঘটনাসহ প্রতিটি ঘটনায় অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এসব ঘৃণ্য অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না, দলীয় পরিচয় তাদের রক্ষার ঢাল হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নারী নির্যাতনের যেকোনো ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনের আগেই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব অপরাধ ও ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান সব সময়ই স্পষ্ট এবং কঠোর। এসব ঘৃণ্য অপরাধীদের যারা রাজনৈতিক আশ্রয় দেবে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

এসব ঘটনায় একটি দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি এসব ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। যখনই কোনো ইস্যু পায় তা খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অপপ্রয়াস চালায় বিএনপি। কিন্তু বিএনপির আন্দোলন শুধু মুখে আর পত্রিকার পাতায় ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে। তারা দেশে-বিদেশে যেখানেই সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করুক না কেন, সে সম্পর্কে সরকার সজাগ।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভয়ারণ্য তৈরি করেছিল, তা কি তারা ভুলে গেছে? বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। নারী নির্যাতন বিশ্ববিবেককে হতবাক করে দিয়েছিল। ফাহিমা, মাহিমা, পূর্ণিমাসহ হাজারো নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। কেউই বিচার পায়নি। বিচারের বাণী তখন নিভৃতে কেঁদেছে।’

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতন একাত্তরের পাক হানাদারদের নির্যাতনকেও হার মানিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আজ বড় বড় কথা বলে। চট্টগ্রামে নিজ দলের নেতা জামাল উদ্দিনকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে নিজ দলের লোকেরা, সেই হত্যার বিচার পর্যন্ত তারা করেনি।’ বিএনপিকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপরাধী ও খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, পুনর্বাসন করা, খুনিদের লালন-পালন এবং খুন-সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্র বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বেগম জিয়া অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে ৯৮ জন মানুষকে হত্যার বিচার বন্ধে সংসদে ইনডেমনিটি বিল এনে বিচার বন্ধ করেছিলেন।’

কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার যেকোনো অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, দুর্নীতি-অনিয়ম এবং যেকোনো অপরাধের মূলোৎপাটনে সরকারের কোনো পিছুটান নেই। প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, বিচার হচ্ছে। কোনো অপরাধীই রক্ষা পাবে না।’

বিএনপির মহাসচিব সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন, সরকারের নাকি ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তারা একই ঢোল সব মওসুমে বাজিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলন-নির্বাচনে চরমভাবে ব্যর্থ বিএনপি এখন পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা।’

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অনেক ঘটনা দেরিতে জানাজানি হওয়ার বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেকে ঘটনা প্রকাশ করে না, এ জন্য অনেক ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিষয় গোপন না রেখে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করার জন্য যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সময়মতো তা অবহিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here