সৈয়দপুরে গৃহবধু আকলিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন; ধর্ষণের পর হত্যা

0
180
সৈয়দপুরে গৃহবধু আকলিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন; ধর্ষণের পর হত্যা

খবর৭১ঃ

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ সৈয়দপুরে গৃহবধু আকলিমা হত্যা ঘটনার ৫ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলের অদুরে পাওয়া একটি সিগারেটের প্যাকেটের ছেড়া অংশের সুত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া পুলিশের টীম ওই রহস্য উদঘাটনসহ নিহত আকলিমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হাতে লেখা চিরকুট ও এক টুকরো পেন্সিল। ওই চিরকুটের সাথে নিহত আকলিমার কোমড়ে পাওয়া চিরকুটের মিল পাওয়া গেছে। এরপরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কাঙ্গালুপাড়ার আব্দুল করিমের পুত্র আনারুল ইসলাম (৩৫) ও একই এলাকার মতিয়ার রহমানের পুত্র শুভ (২০)। গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নীলফামারী আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা। গতকালই তাদের নীলফামারী জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের মধ্যে পলাতক রয়েছে কাঙ্গালুপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র হৃদয় (২০)। এ বিষয়ে গতকাল শনিবার সকালে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের সাথে কথা বললে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে শনিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেসব্রিফিং করেছেন নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হত্যার রহস্য উদঘাটন প্রসঙ্গে থানা পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট সকালে কামারপুকুর ইউনিয়নের স্বাদুপানি উপকেন্দ্র মৎস্য খামারের পিছনে বৈদ্যুতিক টাওয়ারের নীচে তিন সন্তানের জননী আকলিমা বেগমের (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়। উদ্ধার করা হয় লাশের কোমড়ে থাকা ডারবি সিগারেটের ফয়েল প্যাকেটের উল্টো দিকে লেখা সুইসাইড নোট ও এক টুকরো পেন্সিল। এঘটনায় পুলিশ ধারনা করে সে আত্মহত্যা নয়, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট হত্যা মামলা করে নিহতের মা মমতাজ বেগম। এতে সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে নিহত আকলিমার স্বামী শরিফুল ইসলামকে (২৮) পার্বতিপুর উপজেলার হাবড়া এলাকার রসুলপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে সিগারেটের প্যাকেটের ফয়েল কাগজে লেখা সুইসাইড নোট ও পেন্সিল উদ্ধারের সুত্র ধরে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের নির্দেশনায় ও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসনাত খান এবং পুলিশ পরিদর্শক আতাউর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যাপক তদন্ত চালায় তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সাহিদুর রহমানসহ তার দল। এ তদন্তের অংশ হিসেবে থানার দুই চৌকষ পুলিশ সদস্য হিমেল ও শাকিল রাখাল বেশে পরপর দুইদিন ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলের অদুরে বাঁশঝাড় থেকে সিগারেটের প্যাকেটে লেখা একই ধরণের চিরকুট উদ্ধার করে তারা।

সুইসাইড নোটটি আকলিমার হাতের লেখা কিনা তা জানতে আকলিমা যে মাদরাসা থেকে ৮ বছর আগে দাখিল পাশ করেছিল সে মাদরাসায় যায় পুলিশের দলটি। সেখানে তারা হাতের লেখা মিলিয়ে দেখে লেখাটি আকলিমার নয়। পরে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সন্ধিগ্ধ আসামি আনারুল ও শুভকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসায় গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা দুইজনসহ হৃদয় নামে অপরজন আকলিমাকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। পরে তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিহত আকলিমা বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষণকারীরা তাঁকে মেরে ফেলে। পরে আনারুল একটি সুইসাইড নোট লিখে আকলিমার কোমড়ে গুজে রাখে এবং সে আত্মহত্যা করেছে প্রচার চালানোর জন্য গলায় রশি বেঁধে কামারপুকুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা বাঁশঝাড়ের পাশে বৈদ্যুতিক খুটির পাশে ফেলে রাখে তারা। এব্যাপারে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান,গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে গতকাল শুক্রবার নীলফামারী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

সেখানে তারা বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয়। তিনি বলেন সৈয়দপুর থানার সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরামহীন পরিশ্রমের কারণেই ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অপর আসামি হৃদয়কে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে আজ শনিবার দুপুরে হত্যার রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং করেছেন নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম-পিপিএম। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here