খণ্ডিত তথ্য জোড়া লাগানোই চ্যালেঞ্জ

0
967
সিনহা হত্যা: ফের ৪ দিনের রিমান্ড পুলিশের করা মামলার সেই তিন সাক্ষীর

খবর৭১ঃ মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত থেকে পাওয়া গেছে বেশকিছু খণ্ডিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত।

এগুলোকে জোড়া লাগিয়ে নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে সিনহার বোনের করা মামলাটির সুরাহা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আর এ ক্ষেত্রে ঘটনাটি তাৎক্ষণিক নাকি পরিকল্পিতভাবে হয়েছিল-সেটি উদ্ঘাটন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া টেকনাফ থানার সেই রাতের দুটি সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ায় থানার প্রকৃত চিত্র এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা বের করতেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে সমন্বিত খণ্ডিত চিত্রের (তথ্য-উপাত্ত) মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে আশাবাদী মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর এ বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য-উপাত্ত আসতে থাকে। এগুলো ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্তদের।

প্রতিদিনই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করছেন। অপরাধ করে যাতে কেউ পার না পায় এবং নিরপরাধ কেউ যাতে জড়িয়ে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সিনহা হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তে এবং সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদানে ইতোমধ্যে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন একাধিকবার কক্সবাজার গিয়েছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, যদি বাস্তব চিত্রটা জানাতে চাই, সেটা হল- ৩১ তারিখ রাতে বাস্তবিক অর্থে কী ঘটেছিল তার খণ্ড খণ্ড চিত্র ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি।

যার ফলশ্রুতিতে ওই খণ্ডিত অংশগুলোকে ক্রমান্বয়ে একটির পর একটি জোড়া লাগিয়ে একটি বাস্তব রূপ দাঁড় করানো তদন্তকারী কর্মকর্তার অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, অনাকাক্সিক্ষত এবং মর্মান্তিক এই ঘটনাটির বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ আরও বলেন, দু’দফায় আমরা অভিযুক্তদের রিমান্ডে এনেছি। এর অন্যতম প্রধান কারণ রিমান্ডে তারা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত আমরা তাদেরকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে এসেছি। তারা যেসব তথ্য দিয়েছেন সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী কর্মকর্তা সেসব তথ্যকে সমন্বিতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন।

তিনি বলেন, একটি ইতিবাচক অগ্রগতি ইতোমধ্যে হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মামলাটির সুরাহা করতে পারব।

হত্যার মোটিভ বা কোনো ক্লু জানতে পেরেছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মুখপাত্র আশিক বিল্লাহ বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত একটি প্রেক্ষাপট থাকে।

ওই প্রেক্ষাপট বা উদ্দেশ্য কি পরিকল্পিত নাকি তাৎক্ষণিক একটি সিদ্ধান্তের ফল-সেটি তদন্তকারী কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করছেন। এই মুহূর্তে বলাটা সমীচীন হবে না তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল। তবে আমরা ঘটনাদৃষ্টে দু’রকম তথ্যই পাচ্ছি।

একরকম তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে যাওয়ার, যা ইতোমধ্যে এজাহারে অভিযুক্তরা বর্ণনা করেছেন। আরেকটি তথ্যের খণ্ডিত অংশ, যেটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ বলে আমরা বিভিন্নভাবে তথ্যচিত্র পাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here