খাদ্য মজুত আছে, রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

0
19

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বজুড়ে এখন বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি, বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে, তবে আমাদের রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সব দেশের মতো বাংলাদেশেও মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। রিজার্ভেও একই কথা। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কারণ, আপদকালীন খাদ্য মজুত রয়েছে। বেশি আলোচনার জন্য এখন প্রায় সবাই রিজার্ভ নিয়েই কথা বলেন। আর এই সতর্কতা দেশের জন্য ভালো বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় ১৪ দলের নেতাদের তিনি বলেন, আপনারা এসেছেন, ভালো হয়েছে। খুশি হয়েছি আমি। সবার কথা শুনব… কীভাবে কী করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আরও সুসংগঠিত হয়ে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে মানুষের কাছে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ছাড়া এ দেশের মানুষের কল্যাণ হবে না। গ্রেনেড হামলাকারী, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে প্রতিদিনই আন্দোলন, সরকার উৎখাতসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়।

তিনি বলেন, জনগণ যতক্ষণ সঙ্গে আছে, আমি ওটা কেয়ার করি না। এরপরও দেশে জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ― এগুলো যেন না করতে পারে। যারাই এগুলো করবে, তাদের কোনো ছাড় নেই। যতই মুরুব্বি ধরুক, আর যাই ধরুক। এদের ছাড়ব না। যারা মানুষের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, এই নীতিতেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে যাবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছি। গাজায় গণহত্যা চলছে। আমরা এর প্রতিবাদ করছি। যেখানেই যাই, এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মারা যাওয়ার ঘটনায় আমরা শোক জানিয়েছি। শোক দিবসও পালন করেছি। যেখানেই মানুষ বিপদে পড়েছে, আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় নীতিতে কাজ করছি।

সমবায়ের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ধান-মাছ চাষ হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, সেখানে ছয়বিঘা জমি দিয়েছি আমি। সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে এখন শরীয়তপুরের সবজি। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত অতিক্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

বিজয় ও স্বাধীনতার চেতনা নস্যাৎ করতেই ২৫ আগস্টের ঘটনা ঘটানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপর থেকেই দেশটা শুধু পেছাতে থাকে। সরকার যে জনগণের জন্য কাজ করে, কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই মানুষ এটা বুঝতে পারে।

গ্যাস বিক্রির চুক্তিতে রাজি হননি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শক্তিশালী দেশটি সেই সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেয়নি। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় বসার মতো দৈনতায় ছিলাম না কখনও।

বাংলাদেশে এয়ার বেজ বানাতে দিলে কারও কারও নির্বাচনে জিততে কোনো সমস্যা নেই এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু রাজি হইনি আমি। বে অব বেঙ্গলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ঘাঁটি বানাবে। ভারত মহাসাগরের এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটার ওপর তাদের নজর। এখানে বেজ বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়? আমি এটা করতে দিচ্ছি না বলেই খারাপ,’ যোগ করেন তিনি।

চক্রান্ত এখনও চলমান রয়েছে। তবে জনগণ সঙ্গে রয়েছে, তারাই সামনে চলার মূল শক্তি বলে গর্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, স্কুলে ছেলেদের সংখ্যা কমছে। মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এবার মেয়েরা বেশি পাস করছে, ছেলেরা কম। এর কারণ খুঁজে বের করতে বলেছি। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ফান্ড থেকে আমরা সুবিধা দিচ্ছি। ২২ জেলা ও ৩৩৪ উপজেলা এখন ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত। বাকিগুলোও হবে। প্রত্যেক নাগরিক দুই শতক জমিসহ ঘর পাবে। কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, অভুক্ত থাকবে না। পাশাপাশি নিরক্ষরও থাকবে না। সবাইকে পড়াশোনার আওতায় আনব। বেকারও থাকবে না। কর্মসংস্থানের নানা সুযোগ সৃষ্টি করছি।

বৈঠকে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here