কৃষক দলে তীব্র অসন্তোষ

0
25
কৃষকদলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সারাদেশে কর্মীসভার সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু দলকে শক্তিশালী করার বিপরীতে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সারাদেশে কর্মীসভা পরিচালনা করার জন্য সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে তা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। বিশেষ করে টিম গঠনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক কেন্দ্রীয় নেতা।

তারা অভিযোগ করেছেন, টিম গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে ১৪টি সাংগঠনিক জেলার টিম লিডার ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলকে ১৫টি সাংগঠনিক জেলার টিম লিডার করা হয়েছে। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতি ও সেক্রেটারির পছন্দের জুনিয়র নেতাদের টিম লিডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে বাদ দিয়ে ১১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে টিম লিডার করা হয়েছে। দায়িত্ব দেয়া হয়নি সিনিয়র সহ-সভাপতিকেও।

এদিকে টিম গঠনের পরপর ক্ষোভ জানিয়েছেন দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তারা অভিযোগ করেছেন, টিম গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে ১৪টি সাংগঠনিক জেলার টিম লিডার ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলকে ১৫টি সাংগঠনিক জেলার টিম লিডার করা হয়েছে। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতি ও সেক্রেটারির পছন্দের জুনিয়র নেতাদের টিম লিডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে বাদ দিয়ে ১১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে টিম লিডার করা হয়েছে। দায়িত্ব দেয়া হয়নি সিনিয়র সহ-সভাপতিকেও।
কৃষক দলের একজন যুগ্ম সম্পাদক গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গত আন্দোলনে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেয়নি দায়িত্বশীল নেতারা।

এতে দলের হাইকমান্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিগগিরই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেকারণে জেলাওয়ারী কর্মীসভা করার জন্য তড়িঘড়ি করে টিম গঠন করেছেন সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা। তিনি আরও বলেন, নতুন কমিটি গঠনে দীর্ঘ সূত্রতা তৈরি করতেই জেলায় জেলায় কর্মীসভার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে শীর্ষ দুই নেতা নিজেরাই বেশির ভাগ জেলার টিম লিডার হয়েছেন। পাশাপাশি তাদের পছন্দের নেতাদের বাকি জেলাগুলোর টিম লিডারের দায়িত্ব দিয়েছেন। এতে করে সাংগঠনিক রিপোর্ট একপেশে হবে, নিরপেক্ষ হবে না। বর্তমান কমিটির পক্ষেই রিপোর্ট আসবে।
এ বিষয়ে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন, কৃষক দলের সবকিছুই স্বচ্ছতার সঙ্গে ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। আজকের মিটিংয়ে বেশির ভাগ জেলায় সভাপতি-সম্পাদককে টিম লিডারের দায়িত্ব দেয়া নিয়ে আপত্তি তুলেনি কেউ। আপনাকে যেহেতু অনেক বলেছেন আমি বিষয়টি নলেজে নিলাম। এ ব্যাপারে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করব।
জেলাওয়ারী কর্মীসভার টিম লিডারের তালিকা
ঢাকা বিভাগ
টাঙ্গাইল জেলাঃ কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ গাজীপুর জেলা ও মহানগর কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ ঢাকা জেলাঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ মানিকগঞ্জ জেলাঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর: শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় সংসদ মুন্সীগঞ্জ জেলাঃ শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকী, যুগ্ম সম্পাদক কেন্দ্রীয় সংসদ।
ফরিদপুর বিভাগ
ফরিদপুর জেলা ও মহানগর, রাজবাড়ী জেলা: কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা: সৈয়দ অলিউল্লাহ সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।
চট্টগ্রাম বিভাগ
নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ফেনী জেলা: কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।
চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলাঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ।
কুমিল্লা বিভাগ
কুমিল্লা মহানগর, কুমিল্লা দক্ষিণ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। জনাব মামুনুর রশীদ খান, সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ কুমিল্লা উত্তর ও চাঁদপুর জেলা। কৃষিবিদ মিজানুর রহমান লিটু, যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ।
সিলেট বিভাগ
সিলেট মহানগর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা। শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাঃ খন্দকার নাসিরুল ইসলামা, সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।
ময়মনসিংহ বিভাগ
ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা: মোশারফ হোসেন এমপি-যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোণা জেলা: কৃষিবিদ শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব-যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ।
খুলনা বিভাগ
কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরা জেলা। কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।
খুলনা মহানগর, খুলনা ও বাগেরহাট জেলাঃ জামাল উদ্দিন খান মিলন, সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ যশোর, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা: মোঃ ইউসুফ আলী মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল মহানগর, বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ এবং ভোলা জেলা: জনাব মোঃ ফজলে হুদা (বাবুল), যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ।
পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলাঃ শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকী, যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ।পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলাঃ কৃষিবিদ শাহ মোঃ মুনিরুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক-কেন্দ্রীয় সংসদ।
রাজশাহী বিভাগ
সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলাঃ কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ পাবনা জেলা: শহিদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় সংসদ।
রাজশাহী মহানগর, রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা: ব্যারিষ্টার ওবাইদুর রহমান টিপু, যুগ্ম সম্পাদক কেন্দ্রীয় সংসদ।
রংপুর বিভাগ
রংপুর মহানগর, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলাঃ এ্যাড, আবুল বাশার আকন্দ, সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।
নীলফামারী, গাইবান্ধা ও সৈয়দপুর জেলা: কর্নেল (অবঃ) এস এম ফয়সাল, সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।
দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা: আলহাজ্ব আ ন ম খলিলুর রহমান (ভিপি ইব্রাহিম), সহ-সভাপতি-কেন্দ্রীয় সংসদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here