নড়াইলে বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার দুই পুত্রবধূ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী

0
47

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে: নড়াইলে বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার দুই পুত্রবধূ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রহস্য বেরিয়ে আসেছে নড়াইলের জামরিলডাঙ্গা গ্রামের ৭৪ বছরের বৃদ্ধা ছালেহা বেগমকে পুড়িয়ে হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। নিহত সালেহা বেগমের দুই পুত্রবধূ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। আমলী আদালত কালিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে তারা এ জবানবন্দী দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমানুল্লাহ আর বারী জানান, দুপুরে নিহত ছালেহা বেগমের পুত্রবধূ আরিফ খন্দকারের স্ত্রী কুলসুম ও বৃহস্পতিবার দুপুরে অপর পুত্রবধূ ইরুপ খন্দকারের স্ত্রী নারগিস জবানবন্দী দিয়েছেন। নিহতের ছেলে ইরুপ খন্দকার, ইরুপ খন্দকারের জামাই মিরাজ ও আরিফ খন্দকারের ছেলে রাশেদ খন্দকারও পুড়িয়ে হত্যা করার কথা স্বাকীর করে জবানবন্দী দিয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান।এসব কিছু করেছে বৃদ্ধার ছেলে ৯ মাস আগে নিহত আরিফ খন্দকার হত্যা মামলার আসামিদের শাযেস্তা করতে। অবশ্য বৃদ্ধার পুত্রবধূ ইরুপ খন্দকারের স্ত্রী নারগিস দাবি করেন, পুলিশ ভয় দেখিয়ে জবানবন্দী দিতে বাধ্য করেছে। জানা গেছে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পিরোলী ইউনিয়নের জামলিডাঙ্গা গ্রামের মৃত নূর আলী খন্দকারের স্ত্রী সালেহা বেগমকে (৭৪) গত ২২ মে রাতে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ির বারান্দায় পাটকাঠি দিয়ে ঘেরা একটি ঘরে রাত্রিযাপন করতেন। পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের মেয়ে মিনি বেগম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ঘটনার পর পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় (পিপিএম বার) সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহত ছালেহা বেগমের ছেলে ইরুপ খন্দকার দাবি করেন, তার ভাইয়ের হত্যাকারী জেল থেকে বেরিয়ে এসে বৃদ্ধ মাকে হত্যা করেছে। কি কারণে হত্যা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ভাই আরিফ খন্দকার হত্যা মামলাটি মীমাংসা না করায় আমার মাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এই মামলার আসামিপক্ষ দাবি করেছেন, আরিফ হত্যা মামলার আসামিসহ প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে বৃদ্ধাকে নিজেরা পুড়িয়ে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার অধিকাংশ আসামি এলাকায় থাকেন না। মামলার অভিযুক্ত আসামি আকছির মোল্যা চাকরির সুবাদে খুলনায় বসবাস করেন। আসামি রেন্টু শেখ ও তার স্ত্রী তাজমা বেগম খুলনায় বসবাস করেন। আসামি চাকরির কারণে ঢাকায় থাকেন। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, বৃদ্ধা ছালেহা বেগম তিন বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে পড়ে আছেন। এলাকায় কারও সাথে কোনো শত্রুতা নেই। পরিকল্পিত ও নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, ঘটনার পর মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকাজ চালানো হয়েছে। নিহতেরত দুই পুত্রবধূ নারগিস ও কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছে। সে মোতাবেক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। প্রকৃত দোষীরা যাতে আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here