এবার সু চির বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সেনাবাহিনীর

0
88

খবর৭১ঃ
এবার মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী। পুলিশের গুলিতে আটজন বিক্ষোভকারী নিহতের দিন সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ তুললো। খবর রয়টার্সের।

এর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে দুইটি চার্জ গঠন করে। অভিযোগের প্রথমটি ছিল অবৈধভাবে চারটি ওয়াকিটকি রাখা এবং দ্বিতীয়টি ছিল পরিবেশ বিপর্যয় করা। যদিও কোন ধরনের পরিবেশ বিপর্যের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্র জেনারেল জ মিন তুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, `নিরাপত্তা বাহিনী সুশৃঙ্খল রয়েছে, যখন প্রয়োজন শুধুমাত্র তখনই শক্তি প্রয়োগ করছে। এমন কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যাতে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর উদ্বিগ্ন হতে হবে। পশ্চিমাবিশ্ব যা কল্পনা করছে সেটা সত্য নয়।‘

এর আগে সেনাবাহিনী এক সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গা সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে বলেছিল, `নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযমী হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নষ্টেরও অভিযোগ করে সেনাবাহিন।‘

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জ মিন তুন অভিযোগ করেন, সরকারে থাকা অবস্থায় অং সান সু চি বিধি বিধি বহির্ভূতভাবে স্বর্ণ এবং ৬ লাখ ডলার আত্মসাত করেছে। ইয়াঙ্গুনের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফিয়ো মিয়েন থিয়েন এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী এমন অভিযোগ তোলে। এসময় তিনি বলেন, `আমরা কয়েকবার এসব তথ্য যাচাই করেছি। এখন দুর্নীতি বিরোধী কমিশন বিষয়টি তদন্ত করছে।‘ এছাড়া তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত এবং কয়েকজন মন্ত্রী পরিষদ সদস্যও দুর্নীনিতে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীর অভিযোগ আমলে না নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চাপ প্রয়োগ করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নির্বাচিত নেতাদের গ্রেপ্তারের পর জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। গত নভেম্বরে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতাগ্রহণ বৈধ করার চেষ্টা করছে। যদিও নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জ মিন তুন সাময়িক সময়ের জন্য সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করেছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। জান্তা এর আগে এক বছরের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন দেয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও সেই নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে তার কোনো দিন-তারিখ জানায়নি।

এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুদ্ধের মতো আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে। বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল মিয়ানমারে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীকে সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here