মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে খালেদা জিয়াকে’

0
56
আপিল বিভাগেও বহাল খালেদার ৪ মামলায় স্থগিতাদেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

খবর৭১ঃ দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকারের নির্বাহী আদেশে যে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছিল তা শেষ হয়ে আসছে। এখন মেয়াদ বাড়াতে খালেদা জিয়াকে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। পরিবারের আবেদনে গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। যিনি দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে কারাবন্দি ছিলেন। এর মধ্যে ছয় মাসের মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে।

মেয়াদ শেষ হলে ফের কোথায় আবেদন করতে হবে এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যেহেতু সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে আপাতত মুক্তি দিয়েছেন, মুক্তি বলব না বাইরে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং, এই সময়টা পার হলে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। এখানে আদালতের কোনো বিষয় না।

দণ্ডিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এরপর সেখান থেকে গত বছরের ১ এপ্রিল তাকে নিয়ে আসা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন চান খালেদা জিয়া। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। এ আবেদনের শুনানির পর সেটিও খারিজ হয়ে যায়। তখন আপিল বিভাগ বলেছিলেন খালেদা জিয়া রাজি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে।

এরপর ফের হাইকোর্টে জামিন চান খালেদা জিয়া। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি সে আবেদন খারিজ করে সম্মতি দিলে দ্রুত তাকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা দিতে হবে এবং মেডিকেল বোর্ড চাইলে নতুন চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে তার পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে। চলতি বছরের গত ২৪ মার্চ বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমার কাছে একটা দরখাস্ত করেছিলেন খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়ার জন্য। সেখানে বলেছেন লন্ডনে উন্নতর চিকিৎসার জন্য মুক্তি চান। পরে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম, তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরের গমন না করার শর্তে মুক্তি দেয়া হয়। দীর্ঘ দু’বছর এক মাস ১৬ দিন পর ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের নিজের বাসভবন ফিরোজায় যান। কিন্তু করোনার কারণে তার আর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়নি।

এদিকে ঈদের পরের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার আইনজীবী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। বিদেশে তার হাঁটু রিপ্লেস করা হয়েছিল। সেখানে সারাক্ষণ ব্যথা থাকে। সেজন্য চিকিৎসা নিতে তার বিদেশে যেতে হবে।

এদিকে পারিবারিক সূত্র বলছে, সরকারের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠাতে চাচ্ছেন তারাও। পরিবারের সদস্যরা এজন্য সরকারের উচ্চ মহলে দেন-দরবারও করছেন। প্রয়োজনে তারা আবারও সরকারপ্রধানের দ্বারস্থ হতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি হন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় আপিলের পর হাইকোর্টে যা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here