করোনা মহামারীঃ ৪০ লাখ কোরবানির পশু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা

0
115
করোনা মহামারীঃ ৪০ লাখ কোরবানির পশু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা
ছবিঃ সংগৃহীত

খবর৭১ঃ বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার কোরবানি মৌসুমে প্রায় ৪০ লাখ পশু অবিক্রিত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যবারের চেয়ে এবার ২৫ শতাংশ কোরবানি কম হতে পারে। এছাড়া করোনায় মানুষের সামর্থ কমে যাওয়ায় উৎপাদনের চেয়ে কোরবানির পশু ক্রয়ের সংখ্যা কমবে বলে মৎস ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র আভাস দিয়েছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতেও এবার সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটের সংখ্যা কমানো হবে না। বরং একস্থানে বড় হাটের চেয়ে ছোট ছোট আকারে ওয়ার্ড পর্যায়ে হাট বসানোর পক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সে আলোকে সারাদেশে কোরবানির হাট বসানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকে চারটি নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম এমপি।

রবিবার এসব নির্দেশনার কথা জানান তিনি। চার নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-কোরবানির হাট ছোট আকারে করা, স্বাস্থবিধি মেনে চলা, হাটে পরিবার প্রতি একজন যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে হাটের সংখ্যা নির্ধারণ করা।

আরো পড়ুনঃ করোনা মহামারী; ১৩টি পশুর হাট বাতিল করেছে ডিএসসিসি

অন্যদিকে কোরবানির হাট নিয়ে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তিনটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- দেশের বাইরে থেকে গরু আনা বন্ধ, বেচাকেনার অনলাইন প্লাটফর্ম বাড়ানো এবং ভেজাল পশুখাদ্য ও নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করা।

সূত্র মতে, আসন্ন কোরবানির মৌসুমে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে গত বৃহস্পতিবার মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জানানো হয়, গতবছর কোরবানি মৌসুমে দেশে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ সহ ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু মজুদ ছিল। এবার এ সংখ্যা হলো- ১ কোটি১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টি। এবার কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১/১১ লাখ। ফলে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়া এবং করোনা পরিস্থিতিতে অন্তত ২৫ শতাংশ কোরবানির সংখ্যা কম হলে প্রায় ৪০ লাখ কোরবানির পশু অবিক্রিত থাকতে পারে।

করোনা মহামারীঃ ৪০ লাখ কোরবানির পশু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা

কোরবানির হাট প্রসঙ্গে রবিবার এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমরা কোরবানির হাটের সংখ্যা কমানোর পক্ষে নই। এবার হাটের সংখ্যা কমবে না। তবে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছোট ছোট আকারে হাট বসানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি। শহর অঞ্চল ছাড়াও গ্রামগঞ্জে একটি বা দুইটি জায়গায় কোরবানির পশু বেচাকেনা করার জন্য নির্ধারণ না করে একটি ওয়ার্ডে বা ইউনিয়নে বিস্তৃত স্থানে আয়োজন করলে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে ভূমিকা রাখবে। এতে করে একদিকে যেমন পশু কেনা বেচার উপর কোন প্রভাব পড়বে না অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের কোথায় কতটা হাট বসবে তা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে যেসব এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি বা যে এলাকাগুলোকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেসব এলাকায় পশুর হাট বসানো বর্জন করার আহবান জানান তাজুল সলাম ।

আরো পড়ুনঃ করোনাভাইরাস টেস্ট নিয়ে প্রতারণাঃ ডা. সাবরিনার রিমান্ড চাইবে পুলিশ

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর হাটে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য জনসাধারণের উৎসাহিত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সচেতনতামূলক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন তৈরি করা হচ্ছে। যা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুর হাটে লোক সমাগম কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক পরিবার থেকে বেশি মানুষের পরিবর্তে একজনকে কোরবানির হাটে যেতে বলা হয়েছে। কোরবানির পশুর হাটে অযথা যাতে মানুষের ভিড় না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

করোনা মহামারীঃ ৪০ লাখ কোরবানির পশু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট বসানোর উদ্যোগের প্রশংসা করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, করোনা সংকটে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গবাদি পশুকেনাবেচার বিষয়টি দেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচায় সবাইকে উৎসাহিত করে।

অপরদিকে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া তিন নির্দেশনায় বলা হয়েছে-এবার দেশের বাইরে থেকে কোন প্রকারে কোরবানির জন্য গরু আনা যাবে না। কোরবানির হাটে ভিড় কমাতে অনলাইনভিত্তিক কেনাবেচার প্লাটফর্ম বাড়াতে হবে। একে। এক্ষেত্রে ইউএনও এবং ডিসিদের প্রতি অ্যাপ তৈরি করে কোরবানির পশু কেনাবেচায় উদ্বুদ্ধ করার আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়া পশুখাদ্যে ভেজাল বা নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিক হরমোন ব্যবহার প্রতিরোধকল্পে নিয়মিত ভিজিলেন্স টিম প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here