করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শখের বাইক বিক্রি আব্দুর রাজ্জাক খানের

0
425
করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শখের বাইক বিক্রি আব্দুর রাজ্জাক খানের

খবর৭১ঃ করোনাভাইরাসের থাবায় কর্মহীন দেশের কোটি মানুষ। এদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ দরিদ্র, যারা দিন আনে দিন খায়। একদিন কাজ না করলে পরদিন উনুনে আগুন জ্বালানোর সাধ্য থাকে না তাদের। এমন কিছু মানুষের কষ্ট দূর করতে এগিয়ে এসেছেন আব্দুর রাজ্জাক খান। বিক্রি করে দিয়েছেন নিজের চলাচলের সঙ্গী, শখের মোটরসাইকেল। আর মোটরসাইকেল বিক্রি টাকায় আড়াই শতাধিক মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন এই যুবক।

রাজধানীর আদাবর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক খান। ঢাকা উত্তর সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে তার বসবাস। এলাকাটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দিনমজুর শ্রেণির। বর্তমান করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলা সাধারণ ছুটির কারণে আয়ে বন্ধ হয়ে গেছে এসব মানুষের। ফলে এদের অনেকেই অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

দরিদ্র মানুষগুলোর দুর্দশা কাছে থেকে দেখেছেন আব্দুর রাজ্জাক। অসহায় এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে লকডাইনের শুরু থেকে কাজ করে চলেছেন এই যুবক। নিজের জমানো টাকা এবং কিছু টাকা ধার করে গত মাসে ছয় শতাধিক মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। কিন্তু এলাকাটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ ফোন করে জানাচ্ছেন তাদের অসহায়ত্বের কথা।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত মাসে ছয়শো পরিবারকে খাবার দিয়েছি। এরপর আরও অনেকে কল দিয়েছে। কারও সমস্যা ছোট না। আমার কাছে টাকা ছিল না। প্রথমবার খাবার দিতেও আমি ৪৭ হাজার টাকা ধার করেছি।’

মানুষের অসহায়ত্বের কাছে নিজের মোটরসাইকেলকে বড় করে দেখেননি এই যুবক। বলেন, ‘আমার কাছে যেহেতু টাকা নাই। তাই ভাবলাম মোটরসাইকেলটা বিক্রি করে দেই। অনেকের কাছেই টাকা পাই। কিন্তু এখন কেউ দিতে পারছে না। টাকাগুলো পেলে আমি ঈদের পরে নতুন মোটরসাইকেল কিনতে পারব। কিন্তু বর্তমানে গরিব মানুষগুলো খাবার না পেলে তারা কষ্টে থাকবে। তাদের বর্তমান অবস্থার চাইতে বাইকটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি।‘

মোটরসাইকেলটি বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় তা বিক্রি হয়। সেখান থেকে তার কিছু ধার শোধ করে করেছেন রাজ্জাক। বাকি টাকা দিয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন এই যুবক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here