মেয়াদসহ পদ্মা সেতুতে ব্যয় বাড়লো ২ হাজার ৪১২ কোটি

0
109

খবর ৭১: এক বছর মেয়াদসহ নানা কারণে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হলো ২ হাজার ৪১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ পদ্মাসেতু প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। নতুন করে তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হলো ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এটাসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৯ হাজার ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬ হাজার ২৬০ কোটি ৭২ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ১৩ হাজার ২০৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক-এর চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক-এর সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য: প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পদ্মা নদীর ওপর ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার (মূল সেতু ৬.১৫ কি. মি+ভায়াডাক্ট ৩.৬৮ কি. মি) দৈর্ঘ্য এবং ২২ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু নির্মাণ। প্রকল্প এলাকা: মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার লৌহজং, শ্রীনগর, জাজিরা ও শিবচর উপজেলা মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি জুলাই ২০০৭ থেকে জুন ২০১৫ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ডিসেম্বর ২০১৮, ডিসেম্বর ২০১৯, জুন ২০২১। সর্বশেষ জুন ২০২৩ নাগাদ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও জুন ২০২৪ নাগাদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। মূল অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান কার্যক্রম: ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার মূল সেতু (সড়ক ও রেল ভায়াডাক্টসহ), ১৬ দশমিক ২২ কিলোমিটার নদীশাসন (নদীশাসনের অন্যান্য কাজসহ), ১২ দশমিক ১২ কিলোমিটার.জাজিরা সংযোগ সড়ক ও ব্রিজ ইন্ড ফেসিলেটিজ, মাওয়া সংযোগ সড়ক ও ব্রিজ ইন্ড ফেসিলেটিজ, সার্ভিস এরিয়া-২, পুনর্বাসন ও ভূমি অধিগ্রহণ। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময় ভ্যাট ও আয়কর এর হার বৃদ্ধিজনিত কারণে মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের জন্য নিয়োজিত পরামর্শকের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেতুর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক সিভিল কাজের জন্য অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করতে হয়েছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার মান উঠানামা, মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের ঠিকাদারদের অনিষ্পন্নকৃত ক্লেইমস বাবদ অর্থের সংস্থান, মূল সেতুর পাইলের ডিজাইন পরিবর্তন হয়েছে। পদ্মা সেতুর ব্যয় বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করে সচিব বলেন, ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন টাওয়ারের ফাউন্ডেশন প্লাটফর্ম নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, মাওয়া প্রান্তে নদীর গভীরে সৃষ্ট গর্ত ভরাটকাজ, কাঁঠালবাড়ী থেকে বাংলাবাজার ফেরীঘাট স্থানান্তর করতে ব্যয়, মাওয়া নদীশাসন কাজের ডিজাইন পরিবর্তন, জিও ব্যাগের সাইজ পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝিকান্দি থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ ফেরি চ্যানেল ড্রেজিং, ক্লোজার ড্যাম, সার্ভে ভ্যাসেল কেনা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here