চা-শ্রমিকরা ভূমিহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

0
27

খবর ৭১: চা-শ্রমিকদের সব দাবি পূরণ করা হবে, চা-শ্রমিকরা ভূমিহীন থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের যারা কষ্ট করে, তাদের দিকে আমাদের তাকানো দরকার। আমি এটুকু বলতে পারি, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের জন্য আমার বাবা রাজনীতি করে গেছেন। কাজেই তারা কষ্টে থাকবে, এটা হতে পারে না।
শনিবার (০৩ সেপ্টম্বর) বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হন তিনি।

ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, বাংলাদেশের সব পেশার মানুষ কেউ ভূমিহীন থাকবে না। তেমনি চা-শ্রমিকদের কেউ ভূমিহীন থাকবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর শ্রমিকদের ভোটাধিকার দেন। তার কাজগুলো শেষ করার আগেই ঘাতকের বুলেট প্রাণ কেড়ে নেয়। আমরা জাতির জনকের সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করবো।

তিনি বলেন, জাতির পিতা চা-শ্রমিকদের ভোটাধিকার দিয়েছেন। এরপরও তারা ভূমিহীন থাকবে, এটা হতে পারে না। অন্যসব নাগরিকদের সঙ্গে তাদেরও ভূমির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে। এই মাটির সাথে যাতে আপনাদের অধিকার থাকে, সেই ব্যবস্থা আমি করে দেবো ইনশাল্লাহ।

শেখ হাসিনা বলেন, চা-বাগানের মালিকরা অনেক বিনীতপ্রাণ, তারা শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। চা-শ্রমিকদের শিক্ষায় বাগানের স্কুলগুলোতে জাতীয়করণ করা হবে। চা-বাগানে হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হয়েছে, সেটির ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগানের শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, চা-বাগানে উঁচুনিচু টিলায় ওঠানামা করতে হয়, যেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মাতৃত্বকালী ছুটি ৬ মাস করা আবশ্যক মনে করি। আর গ্রাচুইটি কেনো দেওয়া হচ্ছে না, সেটা দেখবো। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমরা অনেক কাজ করে যাচ্ছি। শ্রমিক ও তাদের শিশুরা যাতে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে, সে ব্যবস্থা করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মা সবই হারিয়েছি। আমি দেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

চা শ্রমিকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা সব সময় নৌকা মার্কায় ভোট দেন। আপনারা ভোট দেন বলেই সেবা করতে পারছি, দেশের উন্নয়ন করতে পারছি। যারা হরিজন, সুইপার, তাদেরও ব্রিটিশরা নিয়ে এসেছিল, তাদেরও থাকার জায়গা ছিল না। তাদেরও ঘর করে দিয়েছি। সবার একটি করে বাসস্থান করে দেবো।

চা-শ্রমিক সন্তানদের নৃত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে চা-শ্রমিকদের দেওয়া উপহারের চুড়ি পরে এসে হাত উঁচিয়ে দেখান শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহম্মদ মোশাররফ হোসেন, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

এর আগে শ্রমিকদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে চা-শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন চা-শ্রমিক সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা ও নারী চা শ্রমিক শ্যামলী গোয়ালা।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পাত্রখোলা চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার-আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

সিলেট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মজিবর রহমান ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চা-শ্রমিকরা কথা বলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। তাই সব প্রস্তুতি আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়। ২১টি স্পটে পুরো আয়োজন তুলে ধরা হয়েছে।

এরপর হবিগঞ্জ চন্ডিছড়া চা-বাগান থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন জেলা প্রশাসক ইশরাত জানান। এ সময় শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলেন চা শ্রমিক শিমু রানী রায়। এরপর চট্টগ্রামে কর্ণফুলি চা-বাগানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক। সেখান থেকে চা-শ্রমিকরা বক্তব্য রাখেন এবং চা-শ্রমিক ও তাদের সন্তানরা গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। প্রধানমন্ত্রীও মুগ্ধ নয়নে তাদের নৃত্যপরিবেশনা দেখেন।

গত ২৭ আগস্ট গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা-বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই দিন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে চা-বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন দৈনিক মজুরি অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের অন্যান্য সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়বে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here