এত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আর কোনো সেতু হয়নি

0
27

খবর৭১ঃ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে অনেক ছোট, বড়, মাঝারি নদী আছে। অত্যন্ত বড় সাইজের নদী আছে কয়েকটা। একটা হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, আরেকটা গঙ্গা। এ দুটি মিলিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে পদ্মা। এ পদ্মা আবার মিলিত হচ্ছে আপার মেঘনার সঙ্গে। আপার মেঘনা ও পদ্মা মিলিত হয়ে লোয়ার মেঘনা। এ লোয়ার মেঘনা চাঁদপুরের কাছে সমুদ্রের আকৃতির মতো প্রশস্ত নদী। এই যে নদীগুলোর কথা বললাম, এগুলো বাংলাদেশকে কতগুলো অংশে ভাগ করেছে। এক অংশের সঙ্গে আরেক অংশের যোগাযোগ বেশ কষ্টকর। এখন থেকে ২০-২৫ বছর আগ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অঞ্চল, অর্থাৎ যেখানে রাজধানী ঢাকা, কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, যেমন খুলনা-যশোর, তার সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক; কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল ও পটুয়াখালীর সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক-খুব ঘনিষ্ঠ ছিল না। কারণ যাতায়াত ছিল খুবই কষ্টকর। মেঘনা পাড়ি দিয়ে আসাটা খুব সহজ ছিল। কারণ ভৈরবের কাছে মেঘনা সেতু আছে। সড়ক সেতু আছে, রেল সেতু আছে। কাজেই দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দেশের বাকি অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। যমুনা নদীর উপর সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ হওয়ার পর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের মধ্য অঞ্চল অর্থাৎ ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। গঙ্গা নদীর উপর হার্ডিঞ্চ রেল সেতু ছিল। লালনশাহ সেতু হওয়ার পর যোগাযোগটা অনেকটা স্থাপিত হয়। কিন্তু তবুও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য পদ্মার উপর একটি সেতু নির্মিত হওয়ার রাজনৈতিক চাপ অত্যন্ত জোরালো ছিল।

২০০৯-১০-এর দিকে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। ২০১০-১১ সালের দিকে সেতু নির্মাণের কাজ বেশ জোরেশোরে এগোনো শুরু হয়। পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতার জরিপ সমাপ্ত হয়। নকশা নির্মাণের কাজও শুরু হয়। আমি তখন থেকেই এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এবং আমি এর প্রতিটি ধাপে কাজ করেছি। যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতুর অভিজ্ঞতা না থাকলে পদ্মা সেতু হাতে নেওয়ার সাহস হতো না আমাদের। কারণ এটা পানি প্রবাহের দিক থেকে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। প্রধান নদী হচ্ছে আমাজন। কিন্তু পানি স্রোতের দিক থেকে এটা আমাজনের থেকেও অত্যন্ত শক্তিশালী। কারণ আমাজন যে প্রশস্ততা থেকে প্রবাহিত হয়, প্রাকৃতিক কারণে গঙ্গা ও বহ্মপুত্র, সমন্বিতভাবে যে পদ্মা প্রবাহিত হয় মাওয়ায়, সেটা ছোট চ্যালেন দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য ২-৩ কিলোমিটার। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে এ নদীটি একবার পূর্বদিকে আসে, একবার পশ্চিম দিকে যায় এবং ৬ কিলোমিটারের মধ্যে এটি নাড়াচাড়া করে। এটি সবচেয়ে বেশি স্টেবল থাকে মাওয়ায়। কাজেই নদীর স্থায়িত্বকাল এবং নদী যেখানে নিজে নিজে নিয়ন্ত্রিতভাব আছে, অর্থাৎ স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে আছে, সেই করিডর মাওয়া এবং ওই পাড়ের মাদারীপুরের চরজানাজায় এ এলাকাটা চিহ্নিত করা হয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য।

এ সেতুর নির্মাণ কারিগরিভাবে অত্যন্ত জটিল ছিল, অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল এবং পৃথিবীতে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সেতু নির্মিত হয়নি। আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের নদীর তলায় কোনো পাথর নেই। আমেরিকার বা ইউরোপের কথা যদি বলি, ইউরোপে বড় সেতু নেই, আমেরিকা কিংবা অন্যান্য দেশে যে বড় বড় সেতু দেখি, সেগুলোর ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনে সুবিধা হচ্ছে নদীর পাড়ে কিংবা নদীর তলায় পাথর আছে। এরকম তীব্র স্রোত পদ্মা নদীতে প্রতি সেকেন্ডে ১২ থেকে ১৫ ফুট অতিক্রম করে। এই হচ্ছে স্রোতের নমুনা। বর্ষার সময় এটা অত্যন্ত তীব্র ও শক্তিশালী স্রোতে পরিণত হয়। এ সময় বড় বড় বার্জ কিংবা লঞ্চও এ নদীতে ঠিকমতো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here