হংকংয়ের জন্য ‘দেশপ্রেমিক’ আইন পাশ করল চীন

0
78

খবর৭১ঃ

হংকংয়ের নির্বাচনি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার এক বৈঠকে এ পরিবর্তনে অনুমোদন দিয়েছেন চীনা নেতারা।

নির্বাচনি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আওতায় পার্লামেন্টে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে প্রথমে চীনপন্থি একটি কমিটির পরীক্ষার (ভেটিং) মুখোমুখি হতে হবে।

এই কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীর চীনের প্রতি তার আনুগত্যের বিষয়টি যাচাই করবে। এর মধ্যদিয়ে হংকংয়ের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হবে।

এএফপি বলেছে, হংকংয়ের নির্বাচনি ব্যবস্থায় কথিত সংস্কারে ‘দেশপ্রেমিক’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে চীন।

বেইজিং এ সংস্কারের মাধ্যমে হংকংয়ের পার্লামেন্টে শুধু ‘দেশপ্রেমিক’ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। বিরোধী ও গণতন্ত্রপন্থিরা সতর্ক করে বলেছেন, হংকংয়ের নির্বাচনি ব্যবস্থায় এ পরিবর্তনের অর্থ গণতন্ত্রের সমাপ্তি।

কারণ নির্বাচনি বিধিতে পরিবর্তনের ফলে হংকংয়ের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদের অংশ নেওয়ার আর সুযোগ থাকবে না। সমালোচকরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এই আইন বিরোধীদেরকে পার্লামেন্টের বাইরে রাখবে, যার অর্থ সেখানে গণতন্ত্রের অবসান ঘটবে।

এর আগে গত মার্চে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সময় বেইজিং হংকংয়ের নির্বাচনি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা অনুমোদন করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী হংকংয়ের পার্লামেন্টের আসন সংখ্যা সত্তর থেকে বেড়ে নব্বইটি হবে। কিন্তু এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটা হবে এমন এক পদ্ধতি, যেখানে পার্লামেন্টের এমপি অর্থাৎ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য হতে যারা লড়বেন তাদের আগে ভেটিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে ফলে চীনের সমালোচক কোনো রাজনীতিককে আগেই বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।

এখন লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয় এবং অতীতে এমন কিছু আসনে গণতন্ত্রপন্থিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর বাকি অর্ধেক আসনগুলোতে মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা ব্যাংকিং খাতের মতো খাতগুলো থেকে নেওয়া হয় যেগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বেইজিংপন্থি হিসাবে পরিচিত।

এটা ছিল মূলত ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তি যেটি ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় সম্পাদিত হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here