ফাহিমের খুনির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ অভিযোগ গঠন

0
93
ফাহিমের খুনির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ অভিযোগ গঠন

খবর৭১ঃ
ফাহিমের খুনি তার ব্যক্তিগত সহকারী হাসপিলের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ অভিযোগ গঠন করেছে স্টেটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি: ইত্তেফাক
বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহকে হত্যার দায়ে তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভন হাসপিলের (২১) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার (সেকেন্ড ডিগ্রি) হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ আনা হয়েছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে হাসপিলের বিরুদ্ধে কেন প্রথম মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হলো না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও অপরাধ বিজ্ঞানী ড. রাজুব ভৌমিক নিউইয়র্ক স্টেটের বিদ্যমান আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, নিউইর্য়ক স্টেটে মার্ডার ফার্স্ট এবং সেকেন্ড ডিগ্রির সাজা সমান। দুটি অভিযোগই এ-১ ফেলোনি। অভিযুক্ত হাসপিলের বিরুদ্ধে নিউইর্য়কের বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্ডার ফার্স্ট ডিগ্রি চার্জটি শুধু পুলিশ, দমকল কর্মী ও পিস কিপিং অফিসার হত্যা করলে আনা হয়। সিভিলিয়ান ভিকটিম হলে সর্বোচ্চ মার্ডার সেকেন্ড ডিগ্রি চার্জ হয়। তিনি বলেন, নিউইর্য়কে মৃত্যুদ-ের বিধান নেই। ফলে সেকেন্ড ডিগ্রি হত্যাকাণ্ডেও সর্বোচ্চ শাস্তি প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাসপিলের প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

ফাহিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রোডনি হ্যারিসন বলেন, ফাহিম সালেহের অর্থনৈতিক এবং ব্যক্তিগত বিষয়গুলো তদারকি করতো ‘সন্দেহভাজন’ হাসপিল। পুলিশ বলছে, ফাহিম সালেহের কাছে থেকে হাসপিল বিভিন্ন সময় এক লাখ মার্কিন ডলার ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু ধার পরিশোধ না করে হাসপিল ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন। ফাহিম সালেহ ওই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তার সহকারীকে সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপিল অর্থ ফেরত না দিয়ে ফাহিমকে হত্যা করার পথ বেছে নেন। ফাহিম সালেহ ও হাসপিলের টেক্সট ম্যাসেজের সূত্র ধরে পুলিশ এই খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে।

পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফাহিম সালেহের খুনিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। সে অনুযায়ী নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির আঞ্চলিক টাস্কফোর্স নিউইয়র্ক সিটির ১৭২ ক্রসবি স্ট্রিটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পলাতক হাসপিলকে গ্রেপ্তার করে। এয়ার বিএনবির মাধ্যমে বিপুল ভাড়ায় এই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল সে। এয়ার বিএনবির ভাড়াও পরিশোধ করা হয়েছে ফাহিমের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। এর আগে ফাহিম সালেহের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে হোম ডিপো থেকে মেঝে পরিস্কার করার জিনিসপত্র কেনে হাসপিল। পুলিশ এসব স্থানের ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করেছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকালে নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ইস্ট ম্যানহাটনের বিলাসবহুল কনডোমিনিয়াম (অ্যাপার্টমেন্ট) থেকে ফাহিমের টুকরো করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফাহিম সালেহ ২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরে নাইজেরিয়ায় চালু করেন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘গোকাডা’। সরকার সেটি বন্ধ করে দিলে চালু করেন পার্সেল সার্ভিস। সেটিও জনপ্রিয়তা পায় দেশটিতে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ায় আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টেক জায়ান্ট ফাহিম সালেহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here