নাটকীয় ম্যাচে বার্সাকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়াল

0
22

খবর৭১ঃ  খেলার শুরুটা রিয়াল মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বার্সেলোনাও ক্ষণে ক্ষণে নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে। তবে সুপার কোপা দে এস্পানার এল ক্ল্যাসিকো সেমিফাইনালে বার্সাকে ২-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে রিয়াল।

ম্যাচের প্রথম গোল করে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বার্সা সেই গোলের জবাব দিয়েছে বিরতির আগেই। দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা গেল একই রকম দৃশ্য, রিয়ালের গোলের দ্বিতীয় গোলের জবাবেও আনসু ফাতি গোল করে বার্সাকে সমতা ফেরায়। তবে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে ফেডেরিকো ভালভার্দের গোলের জবাব আর দিতে পারেনি কাতালানরা। তাতেই ৫ গোলের থ্রিলারে বার্সাকে হারিয়ে টানা পঞ্চম ক্ল্যাসিকো জয়ে বড়াইয়ের অধিকারটা নিয়ে নিলো রিয়াল।

এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ আছে আগুনে ফর্মে। বিশেষ করে তাদের আক্রমণভাগ তো কাওকে পরোয়া করে না। বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচেও দেখা গেল তারই ছাপ। শুরু থেকে দেখাচ্ছিলো নিজেদের দাপট। দারুণ গতি নিয়ে প্রতি আক্রমণে ভাঙছিল বার্সেলোনার রক্ষণ। ৮ আর ১৯ মিনিটে দু’বার গোলের কাছাকাছিও চলে গিয়েছিলেন মার্কো অ্যাসেনসিও। তবে দু’বারই তার শট বেরিয়ে গেছে লক্ষ্যের একটু বাইরে দিয়ে। মাঝে একবার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের চেষ্টাও শেষ হয়েছে বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনের হাতে।

তবে বার্সার বিপদ ঘটলো ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায়। মাঝমাঠে সার্জিও বুসকেটস থেকে বলটা কেড়ে নেন বেনজেমা, দখল পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই তা ফরাসি তারকাকে ফেরত পাঠান তিনি, তিনিও কোনো সময় না নিয়েই বাড়ান মার্কার দানি আলভেসকে পেছনে ফেলে বেরিয়ে যেতে থাকা ভিনিসিয়াসকে। সেখান থেকে একটু আগ বাড়িয়ে গোলটা করতে কোনো অসুবিধাই হয়নি ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের।

প্রথম গোলের আগ পর্যন্ত রিয়াল রক্ষণভাগে আক্রমণে জেতে পারেনি বার্সা। গোল হজম করে তবেই যেন টনক নড়ল দলটির। বাঁ পাশ থেকে গোটাদুয়েক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে কিছুটা ব্যস্ততা এনে দিয়েছিলেন লুক ডি ইয়ং, তবে সে দুই হেডারও খুব একটা শক্তিশালী ছিল না। যেমন ছিল না ৪২ মিনিটে পাওয়া গোলের ‘শটটাও’।

বা পাশ থেকে উসমান দেম্বেলে নিচু ক্রস দিয়েছিলেন ছয় গজের বক্সে থাকা লুক ডি ইয়ংকে। তা ঠিকঠাক বিপদমুক্ত করতে পারেনি রিয়াল রক্ষণ, তা-ই ডাচ স্ট্রাইকারের পায়ে লেগে দিক বদলে বারপোস্ট ছুঁয়ে গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে, গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তখন। প্রথমার্ধে অনেকটা কোণঠাসা থেকেও বার্সা শেষ করে ১-১ সমতায়। সে আত্মবিশ্বাসটাই যেন দলটা কাজে লাগালো দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ মিনিটের মাথায় কারিম বেনজেমার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। তবে তার জবাবটাও এসেছে দশ মিনিটের মধ্যেই। জর্দি আলবার ক্রস থেকে গোল করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা আনসু ফাতি। শেষ বাঁশির আগে আরও কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে দুই দল। তবে তার কোনোটাই সফলতার মুখ দেখেনি ফলে খেলা গড়ায় যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়েও বার্সা বলের দখল রেখেছিলো ছুটছিলো জয় সূচক গোলের খোঁজে। সঙ্গে রিয়ালও দেখাচ্ছিলো তাদের ক্ষমতা চালাচ্ছিলো একের পর এক আক্রমণ। তেমনই এক আক্রমণে কপাল পোড়ে বার্সার। সেখানেও ব্যবধানটা গড়ে দিলেন আরেক বদলি। লুকা মদ্রিচের বদলি হিসেবে নামা ফেডেরিকো ভালভার্দে করেন গোলটা। যদিও গোলের পুরো কৃতিত্বটা দুই ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগো আর ভিনিসিয়াসের। প্রতি আক্রমণে বক্সে উঠে এসে বল স্কয়ার করেন রদ্রিগো, তাতে ভিনিসিয়াসের ডামি বোকা বানায় বার্সা রক্ষণকে। তারই সুযোগ নিয়ে গোলটা করেন ভালভার্দে।

আর এই গোলেই জয় নিয়ে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামীকাল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং এথলেটিক ক্লাবের ম্যাচের মাধ্যমে জানা যাবে কে হবে ফাইনালে রিয়ালের প্রতিপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here