লকডাউন নয়, কঠোর বিধিনিষেধ জরুরি

0
21

খবর৭১ঃ করোনা মোকাবিলায় ফের লকডাউন নয়; বরং কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন জরুরি। এর আগে পরপর দুই দফা লকডাউনে দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমেছে। আগের সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক এখনো সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ব্যাংকিং খাত থেকে দেওয়া প্রণোদনার ঋণের অর্থ পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন মোকাবিলায় আর লকডাউন নয়, মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রেখে কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ হাত ধোয়া, হাসপাতালের সক্ষমতা ও সেবার মান বাড়ানো এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে দেশের শীর্ষ স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেছেন। তাদের মতে, নতুন করে লকডাউন দেওয়া হলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। শত শত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। দেউলিয়া হবেন উদ্যোক্তারা। বেকারত্ব আরও বাড়বে। পঙ্গু হবে ব্যাংকিং খাত।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ২৪ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফায় এই মেয়াদ বাড়িয়ে ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানে লকডাউন শিথিল করা হয়। এরপর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলে ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন নামে লকডাউনে ছিল পুরো দেশ। অর্থাৎ করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে ১১ মাস দেশ কার্যত অচল ছিল। এ অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ফলে ইউরোপে দু-একটি দেশে এবং ভারতের কোনো কোনো রাজ্যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশেও লকডাউনের বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ও শিক্ষা খাত। দুই দফায় করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এসব প্রণোদনার বেশির ভাগই ঋণনির্ভর। এর মধ্যে কয়েকটি খাতে ঋণ পরিশোধের সময় শেষ হলেও শিল্প খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম রোববার বলেন, লকডাউন কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ এর আগে এই পদ্ধতিতে খুব একটা লাভ হয়নি। মানুষ লকডাউন মানতে চায় না। কিন্তু অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিল্পের উৎপাদন কমে যায়। সামগ্রিকভাবে মানুষের আয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায় সবকিছুই কমে। তিনি বলেন, দুই দফা লকডাউনের কারণে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের অবস্থা খারাপ হয়েছে। অর্থাৎ আগের লকডাউনের ধাক্কা এখনো সামলে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে দু-একটি খাতে কিছুটা সম্ভাবনা দেখা গেছে। বিশেষ করে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। ফলে এই অবস্থায় লকডাউন দেওয়া হলে তা নেতিবাচক হবে। দীর্ঘ মেয়াদে এর মূল্য দিতে হবে। সবকিছু বিবেচনায় নতুন করে লকডাউন দেওয়া যৌক্তিক নয়। তার মতে, এবার করোনা বাড়লেও মৃত্যুর হার কম। এটি ইতিবাচক দিক। ফলে লকডাউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here