সৈয়দপুরে লকডাউনে কোরবানীর পশু বিক্রি নিয়ে সংশয়ে বিক্রেতারা 

0
205

মিজানুর রহমান মিলন সৈয়দপুর থেকে :
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সৈয়দপুর উপজেলায় পশু কোরবানীর জন্য ১১ হাজারের ওপর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশু স্থানীয় খামারী ও গৃহস্থরা লালন-পালন করে প্রস্তুত করেছেন। উপজেলায় চাহিদার তুলনায় কোরবানীর জন্য গরু ছাগল উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
স্থানীয় খামারীরা জানায়, উপজেলায় ছোট-বড় তিন শতাধিক খামার রয়েছে। করোনাকালে অনেক খামারী আর্থিক দৈন্যতার শিকার হলেও তারা লাভের আশায় ১০ হাজারের ওপর দেশী গরু-ছাগল প্রস্তুত করেছেন। এছাড়াও গ্রামের গৃহস্থ পরিবারগুলোও প্রস্তুত করেছেন ছোট ও মাঝারী আকারের দেশী গরু এবং ছাগল। কোরবানীর জন্য উপজেলায় গরু-ছাগলের অভাব হবে না। বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় এই খাতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ভারত বা মায়ানমার থেকে গরু না এলে বিনিয়োগ উঠে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। সূত্র মতে, চলমান লকডাউন তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে হাটে পশু বিক্রি এবং বাইরের পাইকারদের আগমন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। করোনার কারণে পাইকারদের আগমন এখন তেমন দেখা যাচ্ছে না। হাটেও লোকজন তেমন আসছেনা। এ অবস্থায় খামারীরা পাইকার ও গরু-ছাগল কেনাকাটার জন্য অনলাইনে অর্ডার ও পেমেন্ট নেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। অনলাইনে ও ফোনকলে অনেক পাইকার ও ক্রেতারা দরদাম করে গরু-ছাগলের টাকা বায়না দিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারের শতাধিক গরু-ছাগল বিক্রি করা হয়েছে। এখনও সময় আছে ভেবে খামারীরা বিক্রির আশা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। কোরবানীতে দেশী জাতের গরু-ছাগলের চাহিদা বেশী থাকায় খামারী ও গৃহস্থরা প্রায় এক বছর থেকে গরু-ছাগল মোটাতাজা করেছেন। সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সূত্র জানায়, উপজেলায় কোরবানী জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১১ হাজার ২২০টি পশু। এর মধ্যে ৮ হাজার ১৯৬টি গরু এবং ৩ হাজার ২৪টি ছাগল ও ভেড়া। এছাড়াও গ্রামের গৃহস্থ ও মওসুমি ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করেছেন। উপজেলায় চাহিদার তুলনায় গরু-ছাগল উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ নিয়ে কথা হয় শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট খামার ও ইউসুফ ডেইরি ফার্মের মালিক মো. জামিল আশরাফ মিন্টুর সঙ্গে। তিনি বলেন, গত বছর করোনাকালে ভালে দাম না পাওয়ায় লোকসান গুণতে হয়েছে। তারপরও এবার ঋণ নিয়ে খামারে নতুন করে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রতিটি গরু-ছাগল হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। খামারে এবার ব্লাক বেঙ্গল জাতের দেশী ছাগল এবং রাজস্থানী জাতের বলদ প্রস্তুত করা হয়েছে। তার খামারে প্রস্তুত রয়েছে ১৫১টি ছোট-বড় ও মাঝারী আকারের গরু এবং ৩০টি দেশী জাতের ছাগল। বড় গরু রয়েছে ২৬টি। সব শ্রেণী ক্রেতারা তাদের সামর্থ্যরে মধ্যে পশু কিনতে পারবেন। খামারে দেশী জাতের ছোট ও মাঝারী আকারের গরু ৪৫ হাজার থেকে ১ লাখ এবং বড় গরু ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনেও তার গরু ছাগল কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আসন্ন কোরবানীর ঈদে বেচাবিক্রির অবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাইকার ও ক্রেতাদের সাড়া খারাপ না। ইতোমধ্যে ৫০টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন ভারত থেকে গরু না এলে খামারী ও গৃহস্থরা লাভবান হবেন। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক জানান, সৈয়দপুর উপজেলায় পর্যাপ্ত গরু-ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। কোরবানীর জন্য পশুর অভাব হবে না। কারণ সৈয়দপুর উপজেলায় প্রতি ঈদে ৬ থেকে ৮ হাজার পশু জবাই হয়। সেই হিসাবে চাহিদার চেয়ে বেশী পশু রয়েছে। তবে চলমান লকডাউনে পশু বিক্রি নিয়ে খামারী ও গৃহস্থদের মাঝে দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে পশু বিক্রেতারা যাতে অনলাইনে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে পশু বিক্রি করতে পারেন তার জন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here