বর্ষায় জামাকাপড় জীবাণুমুক্ত রাখতে যা করবেন

0
25

খবর৭১ঃ বৃষ্টিতে আবহাওয়া স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। অন্যদিকে করোনা আবহে জামাকাপড়ের একটু বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। বর্ষাকালে জামাকাপড় কাচা মানেই সেগুলো শুকাতে দেয়া নিয়ে চিন্তা। কিন্তু জামাকাপড় না কেচে উপায়ও নেই। বর্ষার কাচা কাপড় আলমারিতে এক টানা অনেক দিন রেখে দিলে তাতেও ছত্রাক পড়ে যায়। তাই মাঝে মাঝে আলমারির কাপড় গুছিয়ে রাখুন। বর্ষাকালে কাপড়ে সাদা সাদা দাগ পড়ে যায়, যা আসলে ছত্রাক। এর থেকে বাজে গন্ধও বের হয়। এই গন্ধ দূর করার কিছু প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে।

করোনাকালে জামকাপড় কাচা মানেই পরিষ্কার পানি দিয়ে সাবান পানিতে কাচতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গরম পানিও ব্যবহার করা যায়।

অনেকেই অপরিস্কার কাপড় একসঙ্গে ওয়াশিং মেশিনের ভেতর বা লন্ড্রির ঝুড়িতে রেখে দেন। অনেকগুলো জমলে পরে এসঙ্গে ধুতে দেন। এভাবে রাখলে বর্ষাকালে কাপড়ের দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। তাই ময়লা কাপড় একসঙ্গে না রেখে বরং আলাদা আলাদা করে রাখা ভালো।

বর্ষাকালে কাপড়ে সাদা সাদা দাগ পড়ে যায়, জামাকাপড়ে ছাতা পড়ার দাগ যেমন দেখতে খারাপ লাগে, তেমনই বাজে গন্ধও বেরোয়। ডিটারজেন্টের সঙ্গে ভিনেগার ও বেকিং সোডা যোগ করে জামাকাপড় কাচুন, ফাঙ্গাস দূর করতে ভিনেগার ও বেকিং সোডা সবচেয়ে কার্যকর। দুর্গন্ধ দূর করতেও এই উপাদানগুলো ভালো কাজ করে।

জীবাণু ও ছত্রাকের হাত থেকে পোশাককে বাঁচানোর জন্য, কাপড় কাচার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

জামাকাপড় কাচার পর সঙ্গে সঙ্গে শুকতে দেওয়ার দরকার নেই।ডিটারজেন্টে ধোওয়ার পরে হাফ বালতি পানিতে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার দিয়ে তাতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর মেলে দিন। খেয়াল করে দেখবেন কোনো গন্ধ নেই।

ডেটলপানিও গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে কাজ দেয় খুব ভালো কাজ করে। জামাকাপড় ধুয়ে ডেটল পানিতে দশ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন, এতে কাপড়ে সুগন্ধ আসবে। আর রোদে শুকতে না পারলেও কোনো জীবাণু বাসা বাঁধতে পারবে না।

বর্ষাকালে জামাকাপড়ের ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে হলে ধূপকাঠির ধোঁয়াকে কাজে লাগান। ভেজা জামাকাপড় এমন জায়গায় মেলে দিন, যেখানে ধূপের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তাহলে জামা কাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধের বদলে আসবে সুন্দর গন্ধ।

কাপড় শুকনো করার জন্য কখন রোদ উঠবে তার জন্য অপেক্ষা না করে বরং ঘরেই, জানালার কাছাকাছি স্থানে বা পাখার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে হাওয়া-বাতাসে শুকানো যায়।

ছত্রাক থেকে বাঁচতে আলমারিতে সিলিকা জেল পাউচ রাখতে হবে। দামি পোশাকের উপরে সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তুলোয় ভ্যানিলা এসেন্স জাতীয় পদার্থ দিয়ে আলমারির চারটি কোণে রাখতে হবে। পরিষ্কার কাপড়ে পুঁটলি করে বা টিস্যু পেপারে মুড়ে ন্যাপথালিন রেখে দেওয়া যেতে পারে আলমারির প্রতিটি কোণে।

কাঠের আলমারি বা জুতার তাকের কোণের দিকে এক দলা করে কর্পূর বা ন্যাপথালিন রেখে দিন, তা হলে জামাকাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধ হবে না।

ঘরগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে হাওয়া চলাচল করার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গুমোট আর্দ্রতা যত বাড়বে, তত ড্যাম্প লাগবে ঘরের ভিতর। হাওয়া-বাতাস চলাচল করলে ঘর জীবাণুমুক্ত থাকবে, তা না হলেই কিন্তু শিশু, বয়স্ক ও হাঁপানি রোগীদের খুব অসুবিধা হবে। যদি এই ধরনের সমস্যায় ভোগা রোগী থাকেন ঘরে, তা হলে ভেজা কাপড় শুকাতে দিবেন না ঘরের ভিতর। তাতে ড্যাম্প আরও বাড়বে। তারচেয়ে কাপড় শুকানোর জন্য ড্রায়ার ব্যবহার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here