কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইভ্যালির গ্রাহকের টাকা

0
37

খবর৭১ঃ অনলাইনে পণ্য বিক্রিকারী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির পণ্য ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ই-ভ্যালির মতো অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া অবিশ্বাস্য অফারের বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক থাকতেও মন্ত্রণালয়ের তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের টাকা নিয়ন্ত্রণ করে পেমেন্ট গেটওয়ে নিশ্চিত করবে বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ই-ভ্যালি ডটকমসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার বহুপক্ষীয় বৈঠক হয়। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা’ শীর্ষক ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক, ডাব্লিউটিও সেল) হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি এসওপি সার্ভিস ডেভেলপ করা হবে। এতে করে পণ্য ডেলিভারি করার আগে পেমেন্ট নিতে পারবে না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এই পেমেন্ট কন্ট্রোল করবে ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে।

হাফিজুর রহমান বলেন, পেমেন্ট দেয়ার পর পণ্য ডেলিভারি হলে গ্রাহক মেসেজ পাবেন। সেই মেসেজে পেমেন্ট কনফার্ম করবেন গ্রাহকরা। মোটামুটি এই সিদ্ধান্তের আলোকে শিগগিরই এসওপি ডেভেলপ করা হবে। ইমিডিয়েট বিষয় হলো- পেমেন্ট সিস্টেম কন্ট্রোল করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য তাদের কাছ থেকে জামানতের সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

ট্যাক্স-ভ্যাট ফাঁকির কোনো অভিযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ট্যাক্স সংক্রান্ত কিছু ছিল না। এটি দেখিনি। তাদের সম্পদের চেয়ে দায় বেশি, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ক্রেতাদের পণ্য কেনা নিয়ে কোনো বার্তা আছে কি না- প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ক্রেতাদের সতর্ক থাকতে হবে। যারা অস্বাভাবিক অফার দেয়, তারা সন্দেহজনক আচরণ করতে পারে। তারপরও আমরা আশা করি- তারা যেন অনলাইনে কার্ড বা বিকাশ-নগদের মতো সিস্টেমে পেমেন্ট করে, তাহলে পেমেন্ট কন্ট্রোল করা যাবে। এর বাইরে ভিন্ন পন্থায় যদি তারা অ্যাডভান্স দিয়ে দেয়, তাহলে কিন্তু সমস্যা হতে পারে।

আইনিভাবে তাদের ব্যবসাকে কোনো সিস্টেমে আনা যাবে কি না জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি এসওপি ডেভেলপ করছি, সেটি ফলো করার জন্য বলা হবে। এছাড়া অনেকগুলো আইন আছে, প্যানাল কোর্ট আছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তো বহাল আছেই। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বৈঠকের পর ই–কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শমী কায়সার বলেন, এক-দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-কমার্স খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এটা কারও কাম্য নয়। ভোক্তা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থের জন্য এ খাতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা পরিচালন নির্দেশিকা দরকার। এ ছাড়া পেমেন্টের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি প্রয়োজন। নীতিমালা হওয়ার পর ডিজিটাল কমার্স আইনের দিকেও যেতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিনিধি, রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বিটিআরসির প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধি, ই-ক্যাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি চার ব্যাংকসহ মোট পাঁচ প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ও আলেশা মার্টসহ ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য ক্রয়ে কার্ড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলি হলো ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

ব্যাংকগুলোর এমন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গ্রাহকদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত এলো। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অন্য আটটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হলো ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডট কম বিডি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here