আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে তামিমের অবসর ঘোষণা

0
33
ব্র্যাডম্যানকে ছুঁলেন তামিম

খবর৭১ঃ  আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল খান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে ছয় মাসের স্বেচ্ছা বিরতি নিয়েছিলেন। বিরতি শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

ঘণ্টাখানেক আগে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম। লিখেন, ‘আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আজকে থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।’

আজ রোববার তৃতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ব্যাটিং আর অধিনায়কত্বের কারণে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন তামিম। এমন অর্জনের কয়েক ঘণ্টা পরই টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে দিলেন তামিম।

অভিজ্ঞ ওপেনার এমন সময় টি-টোয়েন্টি ছাড়লেন যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দাড়জায় কড়া নাড়ছে। মাস তিনেক পর অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়ার কথা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। স্বেচ্ছা বিরতি শেষে তামিম বিশ্বকাপ খেলবেন কিনা এমন আলোচনা চলছিল কিছুদিন যাবত। এর মধ্যে বিদায়ই বলে দিলেন তিনি।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তার আগে চোটের কারণে অনেকদিন টি-টোয়েন্টির বাইরে ছিলেন তিনি। ফলে প্রস্তুতির ঘাটতি ও তরুণদের সুযোগ করে দিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই ছিলেন টি-টোয়েন্টি বাইরে। আরেকটা বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটের আকর্ষণীয় এই সংস্করণ ছেড়েই দিলেন দেশসেরা ওপেনার। ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। সেটাই তামিমের ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি হয়ে থাকল।

গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, তামিম তাকে জানিয়েছেন তিনি টি-টোয়েন্টি খেলতে চান না। তারপর এই সংস্করণ থেকে ছয় মাসের বিরতি নেন তামিম। তারপর অবশ্য অনেকবারই আভাস দিয়েছেন আর না ফেরার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ চলাকালেও ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘বোর্ডের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নিয়মিতই আছে এবং তারা খুব ভালোভাবেই জানে, টি-টোয়েন্টি নিয়ে আমার ভাবনা কোনটি। আমি স্রেফ নিজে সেই কথাটুকু বলতে চাই, সেই সময়টুকু চাই। সময় হলে আমার সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই আমি জানাব।’

তামিম ছয় মাসের স্বেচ্ছা বিরতি নেওয়ার সময় বলেছিলেন, আশা করি এই ছয় মাসে তরুণদের কেউ আমার জায়গায় এতটাই ভালো খেলবে যে আমার আর প্রয়োজন পড়বে না। তারপরও ছয় মাস পর যদি এমন সময় আসে যে ক্রিকেট বোর্ড, নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে আমাকে দরকার, আমিও যদি তৈরি থাকি, তখন আবার এটা নিয়ে আলাপ হবে।

বিজ্ঞাপন
তামিমের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতে বরাবরই ধঁকুছে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। বোর্ড থেকেও আভাস দেওয়া হয়েছিল, তামিমকে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তামিম হয়তো আবারও ফেরাটা উপযুক্ত মনে করলেন না।

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক তার। কেনিয়ার বিপক্ষে। সেসময় যেমন মারকাটারি ব্যাটিং করছিলেন তাতে এই সংস্করণে তামিমকে আলাদা করেই ভাবা হচ্ছিল। বিদায় বলার আগে বাংলাদেশের জার্সিতে মোট ৭৮ ম্যাচ খেলে ১৭৫৮ রান করেছেন তামিম। বাংলাদেশের পক্ষে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। গড় ২৪.০৮, স্ট্রাইক রেট ১১৬.৯৬। ৭টি অর্ধশতকের পাশাপাশি ১টি শতকও আছে তার। বাংলাদেশের আর কোন ব্যাটারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শতক নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here