বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ

0
26

খবর৭১ঃ বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এপ্রিলের চেয়ে ২৫ মে পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা চারগুণ বেশি। বর্ষার মৌসুম চলে আসায় এ সংখ্যা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। ডেঙ্গির পাশাপাশি এবার চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের শঙ্কাও আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে, যা জানুয়ারিতেই বোঝা যাচ্ছিল। তখন থেকে সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন জনসচেতনতামূলক কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সেটা ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না। কেননা, ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার। এক্ষেত্রে তেমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

তারা বলেন, এসব কার্যক্রম পরিচালনার মতো সিটি করপোরেশনের জনবল ও সক্ষমতা নেই। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা নগরবাসীর মন ভোলানো বা কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর জন্য করছে। এসব কার্যক্রম মিডিয়াতে ব্যাপাকভাবে প্রচার হচ্ছে। বাস্তবে এ ধরনের কার্যক্রম ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

জানা যায়, এবার ডেঙ্গি পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে ৩ এপ্রিল তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ঢাকার দুই সিটি মেয়র। এরপর দুই মেয়র পৃথক কর্মসূচিতে নগরবাসীকে ডেঙ্গির বংশবিস্তারের ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সিটি করপোরেশন সক্ষমতার আলোকে ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক হতে হবে। নইলে এবারও ডেঙ্গি আমাদের ভোগাতে পারে।

আরও জানা যায়, ২৫ মে পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ জন। যেটা এপ্রিলে ছিল ২৩ জন। মার্চ ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ জন করে। চলতি মাসে বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ৪ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে ২৫ মার্চ থেকে চলা এ জরিপের নবম দিনে এমন চিত্র মিলেছে বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ মার্চ থেকে দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করে। ২১ জন কীটতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে গড়া দল এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর আওতায় মোট ৩১৫০টি বাড়িতে জরিপ চালানো হয়। এরমধ্যে ১১৪টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here