কয়রার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বোরো ধানের জমি

0
26

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানির চাপে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কয়রার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে কাঁচা আধা পাকা বোরো ধান জমি।

এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার কৃষক। পানি বাড়লে উঁচু ক্ষেতের বোরো ধান আরো ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা তাদের। নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে ধনু নদীর পানি আশঙ্কা জনক হারে বেড়ে মদন উপজেলার মগড়া, বালই, ছিনাই নদীর পানি
বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি হাওরের নিচু জমি প্রায় ১০ হেক্টর জমি কাঁচা আধা পাকা বোরো ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ঢলের পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ উপজেলায় নতুন বাঁধ ভেঙে বহু জমির ফসলই তলিয়ে যাবে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে রোববার ইফতারের পর নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের অস্থায়ী কয়রা বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করায় বহু কাঁচা আধা পাকা
বোরো ধান জমি তলিয়ে যাবার দুশ্চিন্তায় ভুগছে কৃষকরা। বাঁধটিতে এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করলেও পানি বৃদ্ধি সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ হাওর পাড়ের কৃষকগণ মাটি কেটে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও রোববার ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করায় কৃষকগণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকগণ জানান, কেবল এটিই নয় মাঘান, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের আরো বেশ কয়েকটি ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুকির মধ্যে রয়েছে।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি জানান, রোববার ইফতারের সময় তলার হাওরের কয়রা বিলের অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে বোরো নিচু জমিতে পানি প্রবেশ করেছে ও কিছু আধা পাকা জমি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বেশ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, বাধঁ ভেঙে যাওয়ার কারণে এ হাওরে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। কয়রার ৭ কিলোমিটার মদন ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে দেওসহিলার তলার হাওরের জমি রক্ষা পাবে। এছাড়া খালিয়াজুরী ধনু নদীর পুটিয়ার বাঁধ স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হলে মাঘান, গোবিন্দশ্রী ও ফতেপুরের বোরো ধান আগাম পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পাবে। পানি বৃদ্ধি পেলে মদন উপজেলার ৬শ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউএনও বুলবুল আহমেদ বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে রাতেই হাওরে ছুটে যাই। ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকায় রাতেই
মেশিনে ধান কাটা হয়। তবে এ হাওরের অধিকাংশ কৃষক তাদের বোরো ধান কেটে ফেলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here