সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নে ব্রহ্মত্তর ব্লকে গড়ে উঠেছে পারিবারিক পুষ্টিবাগান গ্রাম

0
180

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বেডে লাগানো হয়েছে নানা রকম শাকসবজি। জাংলায় উঠেছে লাউ, শিম, করলাসহ বিভিন্ন প্রকারের তরিতরকারির গাছপালা। পাশে পুষ্টিকর হরেক রকম ফলমূলের গাছও শোভা পাচ্ছে। সে সব পরিচর্যা করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। আর তাদের পরিবারিক পুষ্টি বাগানের বিষয়ে সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মমিনুর মোস্তফা জামান। আর এ দৃশ্য চোখে পড়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর ব্লকে স্থাপিত ৩৫টি পারিবারিক পুষ্টি বাগানে। এ সব বাগানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূল কৃষক পরিবারগুলোর দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পুষ্টির অভাব অনেকটাই দূর হচ্ছে। এছাড়াও পারিবারিক পুষ্টিবাগান থেকে আহরন করা শাকসবজি কিছু বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ‘এক ইি জমিও যেন অব্যবহৃত না থাকে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারাদেশে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্প গ্রহন করা হয়। সারাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ওই প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর উপজেলায় বেশ কিছু সংখ্যক পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর ব্লকেই স্থাপন করা হয় ৩৫টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান। পারিবারিক পুষ্টিবাগানে লাগানো হয়েছে লাউ, কুমড়ো, বেগুন, করলা, ফুলকফি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, শসা, শিঙা, পিঁয়াজ, রসুন, লালশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, কলমি শাক, ধুনিয়াপাতা প্রভূতি। এছাড়াও রয়েছে আম, মাল্টা, পেঁপে, লেবুসহ নানা রকম ফলফলাদির গাছও। এ সব পুষ্টি বাগানে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষক-কৃষাণী সংসারের অন্য সব কাজকর্মের সঙ্গে সঙ্গে এ সব পারিবারিক পুষ্টি বাগানের পরিচর্যা করছেন নিজেরাই। ইতোমধ্যে পুষ্টি বাগানগুলোতে লাগানো শাকসবজিগুলো খাবার উপযোগীও হয়েছে। আর কৃষক-কৃষাণীরা এ সব পারিবারিক পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত পুষ্টিকর নানা প্রকার শাকসবজি খেতে পাচ্ছেন প্রতিদিন। সেই সঙ্গে সে সব উৎপাদিত শাকসবজি নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। এতে করে একদিকে যেমন কৃষক পরিবারগুলোর সদস্যদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মিটছে, তেমনি তাদের সংসারের বাড়তি কিছু আয়ও হচ্ছে।
গত রোববার সরেজমিনে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর দেওয়ানীপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষক সোহরাব হোসেন তাঁর বাড়ি সংলগ্ন পুষ্টিবাগানে শাকসবজি বেডে পানি দিচ্ছেন। তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের পরামর্শে ও দিক নিদের্শনায় বাড়ির সংলগ্ন দেড় শতক অনাবাদি ও পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগার গড়ে তোলা হয়। এতে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও ফলের গাছের চারা লাগানো হয়েছে। বতর্মানে পারিবারিক পুষ্টিবাাগানে শাকসবজিগুলো খাবার উপযোগী হয়ে উঠেছে। আর পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত এসব শাকসবজি পরিবারের দৈনন্দিন শাকসবজির চাহিদা মেটাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পুষ্টির অভাব দূর হচ্ছে। অন্যদিকে পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত শাকসবজি পরিবারের প্রতিদিনের চাহিদা মিটিয়ে কিছু পরিমাণ বিক্রি করে সংসারের আয় করছি।
একই ব্লকের কুতুপাড়ায় কৃষক আমজাদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস আক্তার তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় স্থাপিত পারিবারিক পুষ্টিবাগানে পরিচর্ষা করছেন। এ সময় সেখানে তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আগে পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন খাবারের জন্য বাজার থেকে শাকসবজি কিনে খেতে হতো। আর এখন বাজার থেকে কোন রকম শাক সবজি কিনতে হচ্ছে না তাদের। বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত শাকসবজি সে চাহিদা মেটাচ্ছে। এতে করে আমাদের পারিবারিক ব্যয়ও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। আমরা বাগানে উৎপাদিত নিরাপদ খাবার খেতে পাচ্ছি।
উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মমিনুর মোস্তফা জামান জানান, ব্রহ্মত্তর ব্লকে ৩৫টি পারিরবাবিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। আর এ সব বাগানে উৎপাদিত শাকসজি ও ফলমুল পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণ করছে। সেই সঙ্গে কিছু শাকসবজি বিক্রি করতে পেরে তাদের সংসারের আয় বেড়েছে। এতে তারা বেশ লাভবানও হচ্ছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মমতা সাহা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত “ অনাবাদি পতিত ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান” প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের এ পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। আমরা প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, চারা ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করেছি। কৃষক-কৃষাণীরা শুধু বাগানগুলোতে প্রাত্যহিক পরিচর্যা করছেন। পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনের ফলে পরিবারগুলোর নিরাপদ, মানসম্মত শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here