বেনাপোল দিয়ে স্বদেশে ২১ শিশু ও কিশোর-কিশোরী

0
27

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : ভারতের আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে বেনাপোল দিয়ে স্বদেশে ফিরেছে ২১ জন শিশু ও কিশোর কিশোরী। ২৮ জন ফেরত আসার কথা থাকলেও ৭ জনের শরীরে ভয়ঙ্কর ওমিক্রন সংক্রমণ ধরা পড়ায় এ যাত্রায় তাদেরকে বাদ রেখে ২১ জনকে ফেরত নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে দু’দেশ সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এদেরকে ভারতের পেট্র্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের কোলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারী শামিমা ইয়াসমিন স্মৃতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পরিচালক সেহেলি শাবরিন, যশোরের শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলীফ রেজা, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খানসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ভারতের কোলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারী শামিমা ইয়াসমিন স্মৃতি বলেন, এরা কেউ পাঁচারের শিকার আবার কেউ স্ব-ইচ্ছায় ভারতে অবস্থানের পর পুলিশের কাছে আটক হয়। পরে, ভারতের বিভিন্ন সেইফ হোম তাদেরকে আদালত থেকে মুক্তি নিয়ে নিজেদের জিম্মায় রাখে। সেখান থেকে এসকল বাংলাদেশী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নাগরিকত্ব যাচাই বাছাই করে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কোলকাতা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যেমে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরারাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পরিচালক সেহেলী সাবরিন বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশে নারী ও শিশু পাঁচার হওয়াদের উদ্ধার নিয়ে কাজ করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাঁচার হওয়া ২৮ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উদ্ধার করি। পরে তাদের শরীরে সংক্রমণ পরীক্ষার পর ৭ জনের ওমিক্রণ ধরা পড়ায় ২১ জনকে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ রাজু বলেন, ২৮ জনের ফেরত আসার কথা ছিলো, সেখানে ৭ জনের শরীরে ওমিক্রন সংক্রমন ধরা পড়ায় ২১ জনকে গ্রহণ করা হয়েছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মামুন খান বলেন, স্বদেশে ফেরত আসা ২১ জনকে গ্রহণ করে যশোর মহিলা আইনজীবি সমিতি ও জাস্টিস কেয়ার নামের দু’টি এনজিও সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা এসকল শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের তাদের জিম্মায় রেখে স্ব-স্ব অভিভাবকের হাতে তুলে দিবেন।

স্বদেশে ফেরত আসারা হলোÑ নড়াইল জেলার জামরিলডাঙ্গা গ্রামের নজরুল সিকদারের ছেলে আবুদা সিকদার (৯) একই গ্রামের ইউনুসছ মিয়ার ছেলে আয়ান (৬) ও তাসলিমা আক্তার (১৮)। বাগেরহাট জেলার মুকুল দাস’র ছেলে হৃদয় দাস (১৬), যশোর জেলার সোনা হুসাইন’র ছেলে সাকিল শেখ (১৫), ঠাকুরগাঁও জেলার এনাতুর রহমান’র ছেলে মাসুদ রানা (১৫), বাগেরহাট জেলার নুরুল শেখ’র ছেলে রাব্বি শেখ (১২) একই জেলার নয়া মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া (১০), ঢাকা জেলার জাহাঙ্গীর মিয়ার মেয়ে মুন্নি (১৭), নিহার মন্ডল’র ছেলে পার্থ মন্ডল (৩), চিটাগাং জেলার মোঃ আলীর মেয়ে ইয়াসমীন (২০), মুন্সিগঞ্জ জেলার সাইদুর রহমান’র মেয়ে নওশীন রহমান (১৪) ও ফিউনা রাহমন (৯), বাগেরহাট জেলার আব্দুল হালিম এর মেয়ে শিমুল বেগম (২৩), ঢাকা জেলার সাবু শেখ’র মেয়ে আরিফা খাতুন (১৩), ঝিনাইদাহ জেলার আবু তালেব শেখ’র মেয়ে সালমা খাতুন (২৫), নড়াইল জেলার মাসুদ মোল্যার মেয়ে মরিয়ম (৩), হাদিস শেখ’র মেয়ে মুসলিমা বেগম (২৫), মেয়ে নাইমা খাতুন (৪), শিমুল শেখ’র মেয়ে রুকাইয়া (৪) ও খুলনা জেলার অমল সরকারের ছেলে রাকেশ সরকার (১৪)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here