সৈয়দপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী ও শাশুড়ি আটক

0
74

মিজানুর রহমান মিলন,সৈয়দপুর :

নীলফামারী সৈয়দপুরে যৌতুকের জন্য মুক্তা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাড়াইশাল পাড়ার আদর্শ গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী তহিদুল ইসলাম (২৮) ও শাশুড়ী তহুরা বেগমকে (৪৯) আটক করেছে।

নিহত গৃহবধুর নাম মুক্তা বেগম (২৫) একই উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত উত্তরপাড়ার মোস্তফার মেয়ে।

মুক্তা বেগমের মা মোরশেদা এলাকাবাসির বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৯ বছর আগে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাড়াইশাল পাড়ার আদর্শ গুচ্ছ গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে তহিদুলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন তারা। সেসময় সমস্ত দেনাপাওনা মিটিয়ে দিলেও বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই জামাই ও তার বাবা মা যৌতুক দাবি করে আসছিল। তাদের ঘরে ৫ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। তারপরেও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি করা অতিরিক্ত যৌতুক না দেয়ায় প্রায়ই তারা আমার মেয়েকে মারপিটসহ নানাভাবে অত্যাচার করে আসছিল। একই কারণে বুধবার সকালে মুক্তা বেগমকে বেদম মারপিট করে। এক পর্যায়ে বসার পিড়া দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করায় গুরুতর আহত হয়। এতে অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন মুক্তার গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরের চালের তীরে ঝুলিয়ে চিৎকার করে প্রচার করে যে মুক্তা আত্মহত্যা করেছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সহযোগিতায় মুক্তাকে হাসপাতলে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে।

পরে খবর পেয়ে গৃহবধু মুক্তা বেগমের মা মোরশেদা ও বাবা মো. মোস্তফা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মেয়েকে মৃত ও মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে নারী পুলিশের মাধ্যমে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন। এসময় তাঁর শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে রিক্সাভ্যানচালক স্বামী তহিদুল ইসলাম ও শ্বাশুড়ি তহুরা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের আটক করে। থানায় উপস্থিত নিহত গৃহবধূর ছেলে মোমিন (৫) সে তাঁর নানির কোলে বসে পুলিশকে জানায়, আমার মা কে বাবা পিড়া দিয়ে মারছে আর গলায় ওড়না দিয়ে বাধছে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারছে। এসময় সে তার পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখায়। জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসনাত খান লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাছাড়া নিহতের একমাত্র সন্তান বলেছে তার মাকে পিড়া দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here