বিচারক কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার

0
22

খবর৭১ঃ রাজধানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে করা মামলার রায় দেওয়া ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারকে আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এর পাশাপাশি তার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রবিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার সাইফুর রহমান।

বিচারক কামরুন্নাহারকে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সকাল সাড়ে নয়টায় আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালত রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলা থেকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ ৫ আসামিকে খালাস দেন।

আলোচিত মামলাটির রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় আলামত প্রমাণ সম্ভব না। তাই ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলে যেন মামলা না নেয়, পুলিশকে সেই ‘পরামর্শ’ দেন বিচারক।

বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একইসাথে ওই বিচারকের পাওয়ার সিজ (ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া) করতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া হবেও বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা না নেওয়ার জন্য এক বিচারকের পর্যবেক্ষণ (মতামত) সম্পূর্ণ বে-আইনি ও অসাংবিধানিক। ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here