রায়পুরে ৩ বছর ধরে ডাকাতিয়া নদীতে বালু উত্তোলন , হুমকির মুখে বসতবাড়ী

0
31

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর অংশে বছরজুড়েই চলছে বালু ডাকাতি। এতে ভেঙে পড়ার সহ বহু ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিদ্রাহীন বহু পরিবার। লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

গত ৩ বছর ধরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের (উত্তর ও দক্ষিন চরবংশী এবং চর আবাবিল) বেড়ি বাঁধের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খালগুলোতে অবাধে চলছে বালু ডাকাতি। এতে বেড়ি বাঁধসহ আশপাশের ফসলী জমিও ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

আ’লীগ ও যুবলীগের নামধারী প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলনই নয় তা ট্রলার ও ইঞ্জিন চালিত পাহাড় ট্রলিতে করে এসব বালু বিক্রি করছে মহা উৎসবে। ২নং উত্তর ও ৮নং দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের খাসের হাট, আখন বাজার, মোল্লারহাট বাজারের ব্রিজের পার্শ্বে ও হায়দরগঞ্জের বেড়ি বাঁধের পার্শ্বে ডাকাতিয়া নদী ও সংযোগ খাল থেকে হেভিওয়েট ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন । এবং তা নিচু জমিতে স্তুপ করা হচ্ছে। আর এসবের প্রতিবাদ করলে স্থানীয় লোকজন লাঞ্চিত এবং বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ারুল্লাহ দালাল বলেন গত তিন মাস ধরে আমার ঘরের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একই এলাকার আদর্শ গ্রামের জলিল ছৈয়ালের ছেলে ফারুক ছেয়াল। সে চুক্তিতে বিভিন্নজনের পুকুর নালা ডোবা ভরাট করে। মোহাম্মদ আলী সিকদারের দীঘি ভরাট বাবদ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, মোহাম্মদ আলীর শিকদারের বোনের পুকুর ভরাট বাবদ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, জামাল শিকদার এর নতুন বাড়ির জলাশয় ভরাট বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, সেলিম কাজির বাগান ও জলাশয় ভরাট বাবদ ৬০ হাজার টাকা, জামাল দালালের গর্ত ভরাট বাবদ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত নানা জনের কাছে বালু বিক্রির চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে ফারুক ছৈয়াল।

এমনিভাবে বালু উত্তোলন করছে সরদার বাড়ীর দুলাল সরদার, জুলহাস (১), জুলহাস মোল্লা, রফিক কবিরাজসহ প্রায় ১২ জন বালু খেকো।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আখন বাজার এলাকায় ৬/৭টি নিচু ফসলি জমিতে ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে স্তুপ করছেন রফিক আখন, মাইন উদ্দিন হাওলাদার, মোঃ লিটন ও স্থানীয় আ’লীগ নামধারী কয়েক নেতা । তারা ওই বালু মালবাহি ট্রলিতে করে রাখালিয়া বাজারের হেদায়েত মেম্বার নামে আরেক আ;লীগ নেতার কাছে বিক্রি করেছেন। তার পাশেই মোল্লারহাট এলাকার ব্রিজ সংলগ্ন মাইনুদ্দিন হাওলাদারের বাড়ির সামনে ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু ইত্তোলন করে স্তুপ করছেন। খাসের হাট বাজারের চমকা ব্রিজের কাছে ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন খাল থেকে বালু উত্তোলন করছেন হামিদ মাস্টার নামে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এ বালু উত্তোলনের সময় বাধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালীরা আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর হুমকী দেয়। পরে পাউবো’র কর্মকর্তাদের অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে জানালে তারা এসে টাকা খেয়ে চলে যান। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে এ বালু উত্তোলন চলছে। এতে করে পরিবেশ বিপর্যয়সহ দুপাশের ভাঙ্গতে শুরু করেছে। যে কোন সময় নিরিহ মানুষের বসত ঘরসহ ফসলী জমি তলিয়ে যেতে পারে।

যোগাযোগ করা হলে নিজেকে আ’লীগ নেতা দাবি করে মোঃ রফিক আখন ও মাইনুদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমাদের জমি মেঘনা নদীতে বিলিন হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এখন আমরা বালু উত্তোলন করে কোন রকমে চলছি। লাগলে কিছু নিয়ে যান। কর্মকর্তারাও এসে চা-পানি খেয়ে কিছু নিয়ে গেছে। আমরাও গরিবের উপকার করছি। বেশী বাড়াবাড়ি করলে নদীর চারপাশে বেড়া দিয়ে বালু উঠাব, দেখি কে ঠেকায়।

২নং চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মাস্টার, ৮নং দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিন্টু ফরায়েজী ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) বলেন, এব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা। খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ( পাউবো) উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল মোবাইল ফোনে জানান, তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত আছেন। এসওকে মোঃ আবু হানিফকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনবল কম থাকায় এবং দরজা জানালা চুরি হওয়ায় রায়পুরে অফিস করতে পারছি না।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিন চৌধুরী বলেন-‘নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা জঘন্য অপরাধ। এখনই আমি আমার লোক পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিচ্ছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here