ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের টাকা সুকুকে বিনিয়োগের নির্দেশ

0
24

খবর৭১ঃ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে তফসিলি ব্যাংকের গঠন করা বিশেষ তহবিলের টাকা নবায়নযোগ্য শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুকুকে (শরিয়াহসম্মত বন্ড) বিনিয়োগ করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনা অনুসারে, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ পাবে ব্যাংকগুলো।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দেশের প্রথম গ্রিন সুকুকের সাবস্ক্রিপশন চলাকালে এই নির্দেশনা জারি হলো।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড এই সুকুক ইস্যু করছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুসারে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত ২০০ কোটি টাকার তহবিলের সম্পূর্ণ অংশ (লভ্যতা অনুসারে) ন্যূনতম ৭০ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি চালিত বিদ্যুৎ, জল বিদ্যুৎ, বায়োমাস ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত তালিকাভুক্ত বা সাবস্ক্রিপশন ক্লোজিং-এর তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে তালিকাভুক্ত হবে এরূপ ১০০ শতাংশ অ্যাসেট ব্যাকড গ্রিন সুকুক-এ বিনিয়োগ করা যাবে।

কোন ধরনের সুকুকে বিশেষ তহবিলের টাকা বিনিয়োগ করা যাবে, তার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুকুকের তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রের ১০০ শতাংশ মার্জিনে ঋণপত্র (LC) খুলতে হবে, পণ্য ১২০ দিনের মধ্যে জাহাজীকরণ/সরবরাহ করার শর্ত থাকতে হবে, সমস্ত স্থানীয় ব্যয় ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে এবং প্রকল্প উন্নয়নে সর্বোচ্চ আট মাস সময় বরাদ্দ থাকবে। অন্যান্য শর্ত হচ্ছে- সুকুকের তহবিল স্পেশাল পারপারস ভেইকলের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এই ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুকের জন্য নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ব্যয় ব্যতীত অন্য কোনো খাতে খরচ/কর্জ প্রদান করা যাবে না; প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো কারণে বিএসইসি কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুকুক-এর সাবক্রিপশন সম্পূর্ণ না হলে বা সুকুক ইস্যুর বিষয়টি বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট এসপিভি কর্তৃক এক সপ্তাহের মধ্যে বিনিয়োগকারী ব্যাংকসমূহকে সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান করতে হবে। এ বিষয়ে সুকুক-এর ট্রাস্টি এসপিভি এবং বিনিয়োগকারী ব্যাংকসমূহের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করতে হবে; সেকেন্ডারি মার্কেট বা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট-এর মাধ্যমে বা উভয় প্রকারে কোনো সুকুকের মোট ইস্যুর ১০ শতাংশের বেশি পরিমাণ কোনো ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারবে না; কর্ভারেবল সুকুক-এর ক্ষেত্রে কর্ভারশনের পর ইক্যুয়িটি ধারণ যাতে ১০ শতাংশ এর বেশি না হয়, তা বিনিয়োগকারী ব্যাংককেই নিশ্চিত করতে হবে; অতালিকাভুক্ত সুকুক-এ বিনিয়োগের পূর্বে সাবক্রিবশনের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে তালিকাভুক্তির বিষয়ে ট্রাস্টি, এসপিভি, ইস্যুয়ার এবং বিনিয়োগকারী ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here