১০ দিনে হাসপাতালে তিন হাজার ডেঙ্গু রোগী

0
24

খবর৭১ঃ দেশে একদিকে মহামারি করোনার প্রকোপ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন আটজন।

চলতি বছর গত আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রকোপ ছিল। সেই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার ছাড়ায়। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনের প্রবণতা বলছে, আগস্ট মাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে সেপ্টেম্বরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে আরও ২৪৮ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৪ জন। তবে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর আসেনি।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এক হাজার ২২১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ৪১ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগে ১৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৯৯ জন। আর মারা গেছেন আটজন।

এর আগে আগস্ট মাসে সাত হাজার ৬৯৮ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৩৪ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩ হাজার ২৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ হাজার ৯৮০ জন।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছিলেন, এই বছর এপ্রিল ও মে মাস থেকেই বেশ বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা, এই তিনটা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য সহায়ক। ফলে জুন মাস থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। অক্টোবরে প্রকোপ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই বছর প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু বিস্তৃত হয় ৬৪ জেলায়। সেসময় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়ায় এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪৮ জনের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে আড়াইশর বেশি মানুষের এই রোগে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

করোনা প্রাদুর্ভাবের বছর ২০২০ সালে ডেঙ্গু অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বেড়েছে। অন্যদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহ চিত্রও দেখেছে দেশবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here