করোনায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ

0
23

খবর৭১ঃ  করোনায় দেড় বছরে বিশ্বে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ। নতুন ধরন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে দেশে দেশে বাড়ছে সংক্রমণ-মৃত্যু। বিশ্বে প্রতিদিন প্রাণহানির ৪০ শতাংশ-ই লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে। গত ৩৯ বছরে যুদ্ধে যত মানুষ মারা গেছেন, তার সমান প্রাণহানি এই বৈশ্বিক মহামারিতে।

শ্মশান বা গোরস্থান, করোনায় মৃতদের শেষ বিদায়ের চিত্র এখন দেশে দেশে। সংক্রমণ ও প্রাণহানিতে দক্ষিণ এশিয়ায় সব দেশকে পেছনে ফেলেছে প্রতিবেশী ভারত। গেল ৩ মাসে প্রায় আড়াই লাখের মৃত্যু হয়েছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে। সংক্রমণ কিছুটা কমলেও এখনও গড়ে দিনে প্রাণহানি হাজারখানেক।

ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৩ কোটি ৭ লাখ, প্রাণহানি ৪ লাখ ৫ হাজার। দিল্লির মুসলিম কবরস্থানের সুপারভাইজার মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘অনেক স্বজন লাশ রেখে যান, দাফনের সময় লাশের কাছে থাকেন না। মানবতা আজ মরে গেছে। মরদেহ দাফন করতে করতে ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণায় আছি।’

ভারত ডেটা সাংবাদিক রুকমিনি এস বলেন, ‘কেরালা রাজ্যে মোট মৃত্যু অর্ধেক গণনা করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে সরকারি তালিকার চেয়ে প্রাণহানি ৪০ শতাংশ বেশি।’

করোনার প্রথম ঢেউয়ে পরিস্থিতি খুব একটা নাজুক হয়নি, এমন দেশগুলোতেও বাড়ছে সংক্রমণ। আক্রান্ত ও প্রাণহানি বেড়ে চলায়। আরও এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ২২ আগস্ট পর্যন্ত জরুরি অবস্থা চলবে জাপানের টোকিওতে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, করোনার বেশ কয়েকটি ধরনের রুদ্রমূর্তি দেখছি আমরা। এজন্যই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। যদি সংক্রমণ কমে আসে; তবে হয়ত অল্প সময় স্থায়ী হবে এ বিধি-নিষেধ।

অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, মহামারীতে এযাবৎ যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছে, তা ১৯৮২ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা যুদ্ধ-সংঘাতে প্রাণহানি’র সমান। বিশ্বে প্রতিদিন প্রাণহানির ৪০ শতাংশ-ই লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার, প্রাণহানি ৬ লাখ ৬ হাজার। আর ব্রাজিলে করোনা আক্রান্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার, প্রাণহানি ৫ লাখ ২৮ হাজার।

করোনার নতুন ধরনের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী ডেল্টা ছড়িয়েছে শতাধিক দেশে। আর আলফার উপস্থিতি ১৭৩ দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘উন্নত দেশে ৭০-৮০ শতাংশ টিকাদানের পথে হাঁটলেও অনেক গরিব দেশে এখনও ১ শতাংশ মানুষকেও ভ্যাকসিনের আওতায় আনা যায়নি।’

ডব্লিউএইচও’র কোভিড১৯ টেকনিক্যাল লিড মারিয়া ভান কেরকভ বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টও কয়েক দফা তার ধরণ বদলেছে। এ অবস্থায় দেশগুলোকে সংক্রমণ ও প্রাণহানিরোধে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেক স্বজন লাশের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে, অথচ প্রথম ঢেউয়ে এমনটি দেখিনি। তারওপর টিকা নিয়ে বৈষম্যের শিকার গরিব দেশগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে এ মুহুর্তে এক হাজার একশো কোটি ডোজ টিকা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here