চিলমারীতে আনন্দ র‌্যালি

0
100

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চিলমারী বন্দর প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ায় বুধবার সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিলমারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে থানাহাট বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি উপজেলা মোড়ে এলে চিলমারী প্রেস ক্লাবসহ একাধিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এই মিছিলে যোগ দেয়।
মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলি প্রদক্ষিণ শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালের সামনে এসে শেষ হয়। মুরালের বেদীমুলে অনুষ্ঠিত সভায় চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিলমারী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি মোঃ জয়নুল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম লিচু,ু উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু হানিফা রঞ্জু, থানাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও থানাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মিলন, চিলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি এস, এম নুরুল আমিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নৌ বন্দরটি ফিরে পাবে তার পুরাতন ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন নৌবন্দর হিসেবে আবার পরিচিতি পাবে। এই বন্দরটি থেকে জাহাজ পণ্য বোঝাই করে পুণঃরায় যাবে ভুটান, মায়ানমার, চীন এবং ভারতে। পাশাপাশি আবারও আসাম, রৌমারী, রাজীবপুর, বাহাদুরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার সাথে যাত্রীবাহী ফেরী যোগাযোগ নতুন করে স্থাপিত হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের শেষ ঠিকানা হবে চিলমারী বন্দর। রেল মালামাল পরিবহন ওয়াগন থেকে কয়লাসহ নানা পণ্য খালাস হয়ে উঠবে জাহাজে কিংবা জাহাজ থেকে খালাসকৃত পণ্য উঠবে পণ্য পরিবহন রেল ওয়াগনে। জুট ট্রেডিং কোম্পানী এখানে স্থায়ীভাবে তাদের কারবারি প্রতিষ্ঠান আবারও গড়ে তুলবে। পাট ক্রয়, বাছাই ও বেল তৈরীর কাজে পূর্বের মতো সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করবে। এছাড়াও শত শত ব্যাপারী, কৃষক ও ফড়িয়াদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠবে আবারও চিলমারী নৌ বন্দরটি। দেশের নানা অ ল থেকে আসা ব্যবসায়ী ও পাইকারদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠবে বন্দরের চারিদিক। এখান থেকে আবারও উন্নত মানের পাট নারায়নগঞ্জ, দৌলতপুর, খুলনা, চট্রগ্রামসহ বিদেশে রপ্তানী করা হবে। গত ০৭-০৯-২০১৬ইং তারিখে অনুষ্ঠিত চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ,ইউ, পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চিলমারীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে নৌ বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ঘোষনা দেওয়ার পর থেকে চিলমারীর মানুষ আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বন্দরটিকে ঘিরে।
ঘোষণা দেওয়ার পর দীর্ঘদিন পেড়িয়ে যাওয়া এবং কোন দৃশ্যমান কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বন্দরটি হবে কিনা, তা নিয়েও সংশয়ে ছিল চিলমারীবাসী। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রকল্পটির বিপরীতে অনুমোদিত হওয়ায় চিলমারীতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের মধ্যদিয়ে ২০১৬ সালে কুড়িগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশেষে পূরণ হচ্ছে বলে মনে করছেন চিলমারীর জনসাধারণ। চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিআইডব্লিউটিএ।
অনুমোদিত প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে, ৩৩ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল চ্যানেল ও বেসিন তৈরি, ২ দশমিক ৫১ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা। এর আওতায় ২ হাজার ৪৮০ বর্গমিটার আরসিসি জেটি, এক হাজার বর্গমিটার আরসিসি পেভমেন্ট, ৩৭৯ দশমিক ৮ বর্গমিটার স্টিল জেটি তৈরি করা হবে। এতে ৭৮৫ মিটার তীর রক্ষা, এক হাজার ৩০৪ বর্গমিটার গুদাম, ৫টি পন্টুন, বন্দর ভবন, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ডরমেটরি থাকবে।
এছাড়া পাইলট হাউজ, শ্রমিক বিশ্রামাগার প্রভৃতি অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এই সুবিধাদি নির্মাণের মাধ্যমে চিলমারী এলাকায় বছরে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ লাখ যাত্রী ও এক দশমিক ৫ লাখ টন মালামালের সুষ্ঠু ও নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত হবে। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার জন্য চাহিদার অনুপাতে প্রয়োজনীয় যাত্রী ও মালামাল পরিবহন অবকাঠামো সুবিধা দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here