পরিস্থিতি বুঝে সীমান্তবর্তী সাত জেলায় ‘লকডাউন’

0
32

খবর৭১ঃ সংক্রমণ বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও সীমান্তবর্তী আরও সাত জেলায় লকডাউনের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটি। এই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এসব জেলায় ‘বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে’ জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, পরিস্থিতি বুঝে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রবিবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ এক সপ্তাহ বাড়ানোর আদেশের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন।

করোনাভাইরাসের ভারতে উদ্ভূত ধরনটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রমাণ পাওয়ায় গত ২৪ মে থেকে সাত দিনের লকডাউন চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তবে আরও কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় ক্রমেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। এ অবস্থায় করণীয় নিয়ে শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তবর্তী আরও সাত জেলা অবরুদ্ধে ঘোষণার সুপারিশ করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

সীমান্তবর্তী সাতটি জেলা হলো- নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনা। এসব জেলাতেও গত কিছুদিন ধরে সংক্রমণ হার উধ্বমুখী।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ওপর আমরা বিশেষ নজর রেখেছি, যদি সেখানে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, ওই জায়গাগুলোতে চলাফেরার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারব। বিষয়গুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আপাতত স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি বুঝে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের বিষয়টির আশঙ্কা থেকেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সেটা আমরা করছি। সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলার স্থানীয়ভাবে বিধিনিষেধ দেয়ার বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে, আমরা সেটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। সেই বিষয়ে আমরা হয়তো জানাব, কী করা যেতে পারে। সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, যশোর ও নাটোরের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’

বর্তমানে দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার ১০ শতাংশের বেশি; সরকার এই হার ৫ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘৫ শতাংশে নেমে এলে ধরে নেয়া হয়, পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নয়। আমরা সেই রকম অবস্থায় দিকে নিতে চাই।’

লকডাউন আরও বাড়বে কি না জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চাইছি ৫ শতাংশ আসার পরে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ রেখেছি। তাতে করে মানুষের চলাচলের প্রয়োজনীয়তা বা বাধ্যবাধকতা নাই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকাটা স্বস্তিদায়ক।’

সংক্রমণের বতর্মান অবস্থায় স্কুল-কলেজ খোলা আরও পিছিয়ে যেতে পারে কি না জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটি তাদের বিষয়। উনি বলেছেন এটা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত খুলবে না।’

তাহলে ৫ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত বিধিনিষেধ থাকছে কি না- এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। যদিও আমরা বিকল্প ব্যবস্থাগুলো চিন্তা-ভাবনা করছি স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে। যে রকম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে অনলাইন পরীক্ষা, অনলাইন ক্লাস চলমান আছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here