সৈয়দপুরে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

0
50

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে:
মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় কঠোর হচ্ছে সৈয়দপুরের প্রশাসন। সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে শুরু করেছে নানামুখী তৎপরতা।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, থানা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা সরকারি নির্দেশনা মানাতে জনগণের মাঝে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছেন। তবে এসব তৎপরতা চালানোর পরেও উপজেলার শহর ও গ্রামা লের মাঠ পর্যায়ে মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন যানবাহনে অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ছাড়া এখনও চলাচল করছে। আড্ডা কমেনি জনসমাগম হওয়া স্থানগুলোতে। কমেনি সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও। দিন দিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও মানুষের মাঝে জন্মেনি তেমন সচেতনতা। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধরণের উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালনে বিভিন্ন নির্দেশনাও রয়েছে ওই ১৮ দফায়। এছাড়া গণপরিবহনেও সীমিত যাত্রী পরিবহন করার কথাও বলা হয়েছে।
এসব নির্দেশনা জারির পরেও সৈয়দপুরের সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণও দেখা যায়নি। ক্রেতা বিক্রেতাদের অনেকেই মাস্ক ছাড়া বেচাকেনা করছেন বিভিন্ন পণ্য। এমনকি সামাজিক দূরত্ব মানার কোন বালাই নেই। অটোরিক্সা, পাগলু’র মতো যানবাহনে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এসব কারণে সৈয়দপুরের সচেতন মহল করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করছেন। তাদের আশংকা বাড়িয়ে দিয়েছে করোনা সংক্রমণে উচ্চ হারের তালিকায় নীলফামারী জেলার নাম উঠে আসায়। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, জনসমাগম বাড়ে এমন কোন সামাজিক ও ধর্মীয়সহ অন্যান্য অনুষ্ঠান সীমিত করা, কোচিং বন্ধ রাখা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপনী বিতানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।
শিক্ষক সাবাহাত আলী সাব্বু, স্বেচ্ছাসেবী নওশাদ আনসারী, খুরশীদ জামান কাঁকন, আলমগীর হোসেনসহ অনেকেই বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে এক্ষুনি ব্যবস্থা না নিলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এছাড়া পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ডেটলসহ অন্যান্য পণ্য সহজলভ্য রাখা উচিত এ সময়ে। যাতে করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কর্মীদের দ্রুত সরবরাহ করা যায়। এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ১৮ দফা স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা মানাতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর হয়ে মাঠে নেমেছেন।
এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে আগামী ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মো. রমিজ আলম।
অপরদিকে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মানাতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শহরে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ। এ সময় পর্যন্ত মাস্ক না পড়ার অপরাধে একাধিকজনকে জরিমানা করেন তিনি। আবার অনেককে তিরস্কারও করা হয়।
গত মঙ্গলবার থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদের নেতৃত্বে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন। সৈয়দপুরবাসীকে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালান শহরের সর্বত্র। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষজনের মাঝে মাস্ক বিতরণ করার পাশাপাশি ১৮ দফা বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেন এবং লিফলেট বিতরণও করেন। এছাড়া হোটেল রেস্তোরায় আসন সংখ্যা কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয় সচেতনতামূলক প্রচারণা অভিযানে। জনসমাগম কমানোসহ যানজট নিরসনে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও মো. নাসিম আহমেদ।
এদিকে শহরের বাসটার্মিনালে বিভিন্ন যানবাহন চালক ও হেলপার ও যাত্রীদের সাথে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ইউএনও। এ সময় মুখে মাস্ক পরিধান করা বাধ্যতামূলক জানিয়ে বাসে দুইজনের সীটে একজন করার কথা জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রমিজ আলম, থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ বলেন, সৈয়দপুরবাসীকে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে যা যা করার তাই করা হবে। এরপর যদি সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেউ অনীহা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতীতের মতো এবারও উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here