হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন কাল ॥ ৫১ হাজার ভোটারের হাতে ৩২তম নগর পিতার ভাগ্য

0
44

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন কাল। প্রায় ৫১ হাজার ভোটারের হাতে ঝুঁলে আছে ৩২ তম নগর পিতার ভাগ্য। আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই নির্ধারিত হবে, কে হচ্ছেন ‘নতুন নগর পিতা।’ ইতিমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নিñিদ্র নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে র্যা ব-পুলিশ বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত আইন শৃংখলা বাহিনী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম জানান, আজ শনিবার বিকেলের মধ্যেই সকল কেন্দ্রে পৌছে যাবে নির্বাচনী সরঞ্জাম। রবিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) একটানা চলবে ভোটগ্রহন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ১শত ২০ সদস্যের ৬ প্লাটুন ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি), র্যা পিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যা ব)-এর ৪টি টিমসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য। এছাড়াও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, পৌর এলাকার ২৪টি ভোট কেন্দ্রে ৬শ ৬০ জন পুুলিশ সদস্য সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও প্রতি কেন্দ্রে থাকবে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র মহিলাসহ ৯ জন সদস্য। সূত্রমতে পৌর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই। তবে প্রত্যেক প্রার্থীর নিজ কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। এরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম (নৌকা), হবিগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান (নারিকেল গাছ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) মনোনীত জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট এনামুল হক সেলিম (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (পীর সাহেব চরমোনাই) মনোনীত হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ব্যকস) সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শামছুল হুদা (হাত পাঁখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ বশিরুল আলম কাওছার (মোবাইল ফোন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট’র আইনজীবি গাজী পারভেজ হাসান (জগ)।
এছাড়াও নির্বাচনে ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯ ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৪ জনসহ ৫৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত ৯ দশমিক ০৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভায় বসবাস করেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। নির্বাচন কমিশনের দেয়া সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ‘পায়জামা আকৃতির শহর’ নামে খ্যাত এ পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজার ৯শ ৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২৫ হাজার ৬শ ২০। এখানে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ১৯৪৭ সাল থেকে সংরক্ষিত পৌরসভার দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী এবার নির্বাচিত হবেন ৩২তম নগর পিতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here