নবীগঞ্জে আ.লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নিরব স্বতন্ত্র

0
32
হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে আবারও জমে উঠেছে জুয়ার আসর

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচন উৎসবের আমেজ থেকে এখন উৎকষ্ঠায় রূপ নিচ্ছে। ভোট দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎকষ্ঠা। সেই সাথে সুষ্ট নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর এবং ভোটারদের মধ্যে।বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব ছবির আহমেদ চৌধুরীর অভিযোগ, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। এছাড়া মামলা দিয়ে হয়রানী করছে আওয়ামী লীগ। গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচারণায় আসতে ভয় পাচ্ছেন।নবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে কোন দলেই নেই বিদ্রোহী প্রার্থী।

এখানে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায় বনমন্ত্রী শাহাবউদ্দিনের জামাতা গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে লড়ছেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা মিনিবাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম সুমন।৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নবীগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৬শ’ ৯৯ জন। এ পৌরসভায় সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সির পদে ৪১ জন প্রার্থী ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৯ জন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। আগামী ১৬ জানুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।ভোটারদের ধারণা প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা এবং ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মাধবপুর পৌরসভায় অওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও নবীগঞ্জের চিত্র ভিন্ন। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু’দলই একক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে। যে কারণে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের ভোট নিজেদের ব্যালট বাক্সেই বন্দি হবে বলে মনে করছেন অনেকে।তবে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে লড়ছেন একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি, দুই প্রার্থীর সাথে সমান তালে লড়ে যাবেন তিনিও। নবীগঞ্জ মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম সুমনেরও রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক।নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীর যেমন দলীয় ভোটই জয়ের ব্যাপারে বিরাট ভুমিকা রাখবে তেমনি স্বতন্ত্র প্রার্থীরও নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। পরিবহণ নেতা হওয়ার কারণে মাহবুবুল আলম সুমনকে এগিয়ে দিতে পারে পরিবহণ শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের ভোট।অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গ্রুপিংয়ের প্রভাব ফেলতে পারে পৌর নির্বাচনে। যে কারণে হাতছাড়া হতে পারে দুই দলের দলিয় ভোটের একাংশ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাতছাড়া ভোটগুলো ক্যাপচার করতে বিভিন্ন কৌশল আকছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী সুমন।তবে দলগত বিভক্তি নেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। তারা বলছেন যে ব্যক্তি পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করবেন তাকেই ভোট দেবেন তারা।গত ৭ জানুয়ারি নবীগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রচারণায় আসেন আলোচিত আইনজীবি ব্যারিস্টায় সায়েদুল হক সুমন। এ সময় তিনি হবিগঞ্জের আঞ্চলিক একটি গালি ‘বইতল’ শব্দের ব্যবহার করে নবীগঞ্জকে উত্তপ্ত করে তুলেন। ‘বইতল’ শব্দের অর্থ ‘বহিরাগত’। তার এই ‘বইতল’ শব্দ নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ এক পথসভা করে। নবীগঞ্জ মোড়ে পথসেবার শেষ মূহূর্তে পেট্রোল বোমা হামলা চালানো হয়। এ সময় ৩ জন আহত হন। যদিও কে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিশ্চিত করতে পারেননি কেউই।পেট্রোল বোমা হামলার বিষয়টি নিয়ে ওইদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে পৌর আওয়ামী লীগ। এ সময় তারা এ ঘটনার পেছনে বিএনপি প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী এবং তার লোকজনকে দায়ি করেন।এর প্রতিবাদে ঘন্টাখানেক পরই সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী। এ সময় তিনি এ ঘটনার সাথে তার কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনের পরিবেশকে বিনষ্ট করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পেট্রোল বোমা হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ি করছেন।পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় পরদিন ১১ জানুয়ারি হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়াকে প্রধান আসামী করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় বিষ্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ্ ফয়সল তালুকদার। মামলায় ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই বিএনপি কর্মীকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। ইতোমধ্যে সকল আসামীই আগাম জামিন পেয়েছেন।বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব ছবির আহমেদ চৌধুরীর অভিযোগ, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। এছাড়া মামলা দিয়ে হয়রানী করছে আওয়ামী লীগ।

গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচারণায় আসতে ভয় পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিএনপি দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।তিনি বলেন, পেট্রোল বোমা হামলার ব্যাপারে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আওয়ামী লীগ প্রার্থী রাহেল চৌধুরী প্রচারণায় গিয়ে ভোটারদের সাড়া না পাওয়ায় নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রাণী করছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ দুইজনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে।তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার আতঙ্কে আমার নেতাকর্মীরা প্রচারণায় আসতে ভয় পাচ্ছেন। তারা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, ‘লোকাল নির্বাচনে দলিয় প্রার্থী তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। এখানে জনগণ প্রার্থী দেখেই ভোট দেয়। এছাড়া দলিয় প্রার্থী জনগণের সকল কথা শুনতে পারে না। সেক্ষেত্রে আমি যেহেতু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমাকেই ভোট দেবে জনগণ। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।’ নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচন সুষ্ট হবে। এখ নপর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here