এমপি লিটন হত্যার ৪ বছর আজ: ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি ৭ আসামির

0
42
এমপি লিটন হত্যার ৪ বছর আজ: ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি ৭ আসামির

সুদীপ্ত শামীম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে নৃশংসভাবে হত্যার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। আলোচিত এ হত্যার ঘটনার মামলার রায় গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঘোষণা করেন গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

রায়ে হত্যার মূল পরিকল্পকারী সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আবদুল কাদের খাঁন, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়ি চালক হান্নান ও ভাতিজা মেহেদীসহ সাত জনকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৬ জন কারাগারে থাকলেও চন্দন কুমার ঘটনার পর থেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে রায় ঘোষণার এক বছরেও দণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ নিহত সংসদ সদস্যের স্বজন ও এলাকাবাসী। দ্রত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন লিটনর স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদা জাহান স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। যত দ্রুত হত্যাকারীদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর হবে, ততই তার আত্মসহ আমাদের আত্মা শান্তি পাবে।’

তবে মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন আসামি পক্ষ। বর্তমান উচ্চ আদালত আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শফিকুল ইসলাম শফিক। তবে দ্রুতই আপিল নিস্পত্তি এবং আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মত্যুদণ্ড কার্যকরে বিচারিক আদালতের রায়েই বহাল থাকার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ায় দুপুরে দোয়ার আয়োজন করেছে পরিবার। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও দলীয় কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানসহ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, লিটন হত্যার ঘটনায় পরদিন ১ জানুয়ারি পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ সাবেক এমপি কাদের খাঁনসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া বাসা থেকে কাদের খাঁনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরমধ্যে চার্জশিটভুক্ত আসামি সুবল চন্দ্র মামলার রায় ঘোষণার আগেই মারা যান।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আলোচিত এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তা শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। এ পর্যন্ত আদালতে মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া অপর মামলায় রায় ঘোষণা হয় ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল। মামলার রায়ে সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here