ব্রডব্যান্ডেও পাওয়া যাচ্ছে না ইন্টারনেটের কাঙ্ক্ষিত গতি

0
46
ব্রডব্যান্ডেও পাওয়া যাচ্ছে না ইন্টারনেটের কাঙ্ক্ষিত গতি

খবর৭১ঃ
ব্রডব্যান্ডেও এখন আর মিলছে না ইন্টারনেটের কাঙ্ক্ষিত গতি। কখনো কখনো সংযোগই থাকছে না। অথচ মাস শেষে বিল পরিশোধের জন্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের তাগাদা তো আছেই। পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। কেন ব্রডব্যান্ডে কাঙ্ক্ষিত গতি মিলছে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে সেবাদাতারা বলছেন, খোদ রাজধানীর পাড়া মহল্লায় মাস্তানদের কাছে তারা জিম্মি।

Ad by Valueimpression
তারা কম ব্যান্ডউইথ কিনে বেশি মানুষকে সেবা দিচ্ছেন। ফলে গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে কম তরঙ্গ দিয়ে বেশি গ্রাহককে সেবা দিতে গিয়ে সেবার মান একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে মোবাইল ফোনগুলোর ইন্টারনেটের মান। কোয়ালিটি অব সার্ভিস বলতে যা বোঝাই তা একেবারেই নেই।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম হাকিম ইত্তেফাককে বলেন, করোনার মধ্যে হঠাত্ করেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঠিকভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্কিটও আপডেট করা যায়নি। এছাড়া আগের সময়ে যেখানে বাসাবাড়িতে সারাদিনে সেভাবে ইন্টারনেটের চাহিদা থাকত না। রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার হতো। এখন সেখানে বাসাবাড়িতেই সকাল থেকে ইন্টারনেটের পুরো ব্যবহার হচ্ছে। সে কারণে সেবাদাতারা হিমশিম খাচ্ছেন। সেবাদাতারা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন অনেক আইএসপি আছে। যাদের প্রকৃতপক্ষে সেবা দেওয়ার ন্যূনতম সক্ষমতা নেই। শুধু একটি মাইক্রোটিক রাউটার ব্যবহার করে অপর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ দিয়ে তারা কোনোরকমে সেবা দিচ্ছে। এছাড়া আইএসপিদেরও নির্ভর করতে হচ্ছে এনটিটিএন, আইআইজি অপারেটরদের ওপর। ফলে সবক্ষেত্রে সেবার মান শুধু আইএসপি অপারেটরদের ওপর নির্ভর করছে না। অন্যদেরও দায় আছে। পাশাপাশি প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ইন্টারনেট সার্ভিস দিচ্ছে ঐ এলাকার সরকার দলীয় মাস্তানরা। দীর্ঘকাল ধরেই এভাবেই চলছে। ফলে তারা কম ব্যান্ডউইথ কিনে বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছেন।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা তালেবুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থানীয় কেবল অপারেটরের কাছ থেকে তিনি ৫ এমবিপিএস গতিতে মাসে ৭০০ টাকার চুক্তিতে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছেন। কিন্তু কখনোই তিনি ৫ এমবিপিএস গতি পাননি। সর্বোচ্চ তিন এমবিপিএস পেয়েছেন। কখনো কখনো ইন্টারনেট থাকেই না। ফলে বিকল্প হিসেবে মোবাইল ইন্টারনেট কিনে রাখতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ যাচ্ছে। কিন্তু সেবা মিলছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে চলতি বছরের শুরুতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল সর্বোচ্চ ৯০০ জিবিপিএস। বছর শেষে সেই ব্যান্ডউইথের ব্যবহার গত ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ জিবিপিএসে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলছেন, গ্রাহকরা যে সেবা পাচ্ছেন না, সেটা আমি অস্বীকার করব না। আমরা বারবার চাপ দিচ্ছি। আসলে মোবাইল অপারেটরদের কাছে পর্যাপ্ত তরঙ্গ নেই। কিন্তু তারা সেটা কিনছেও না। ফলে কম তরঙ্গ দিয়ে বেশি মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে তারা ভালো সেবা দিতে পারছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মান আরো খারাপ। সেখানে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের জন্য ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। অর্থাত্ ৫ এমবিপিএস ইন্টারনেট নিতে লাগে ১ হাজার টাকা। অথচ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন ‘এক দেশ এক রেট’। এরপরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। গ্রামাঞ্চলের সেবা গ্রহীতারা বলছেন, অধিকাংশ সময় ইন্টারনেটে সংযোগই থাকে না। অথচ মাস শেষে বিল দিতে হচ্ছে। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়নে ক্যাবল সংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে এখন এগুলো নিয়ে যে অভিযোগ আসছে সেটা আর থাকবে না।

সাধারণভাবে উন্নত দেশগুলোতে এক মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মোবাইল গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সেখানে গ্রামীণফোন তার বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী ফোন প্রতি ২০ লাখ গ্রাহকের জন্য এক মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ করেছে। রবি প্রতি ১৩ লাখ গ্রাহকের জন্য এক মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংক এক মেগাহার্টজ বরাদ্দ রাখতে পারছে ১২ লাখ গ্রাহকের জন্য। টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যার অনুপাতে বেতার তরঙ্গের পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় তাদের নেটওয়ার্কই নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here