কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে জন্মহার বাড়াবে জাপান

0
65
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে জন্মহার বাড়াবে জাপান

খবর৭১ঃ জন্মহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে জাপান সরকার। দেশটিতে গত কয়েক বছরে জন্মহার তুলনামূলক অনেক কমে যাওয়ায় এ ব্যতিক্রম ধর্মী পদক্ষেপ করছে জাপান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে ভর্তুকি প্রদান করবে দেশটির স্থানীয় সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার বাড়াতে আগামী বছর স্থানীয় সরকারগুলোকে ২ বিলিয়ন ইয়েন (১৬১ কোটি টাকারও বেশি) প্রদান করবে জাপান সরকার। গত বছর জাপানে ৮ লাখ ৬৫ হাজারেরও কম শিশু জন্মগ্রহণ করেছে যা দেশটির জন্মহারের সর্বনিম্ন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধির দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে আছে জাপান। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম নিম্ন জন্মহারের দেশও এটি। সে কারণেই জন্মহার বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি খুঁজছে দেশটির সরকার।

ইতোমধ্যেই সরকারীভাবে ‘ম্যাচমেকিং’ বা ঘটকালি সেবা পরিচালনা করছে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকার। এর মধ্যে বেশ কিছু স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগও চালু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাপানের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকারগুলোকে ম্যাচমেকিং সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অর্থ প্রদানে বিশেষ পরিকল্পনা করছি। আশা করছি জন্মহার বৃদ্ধিতে এটি কাজে লাগবে।’

জাপানের টেম্পল ইউনিভার্সিটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও চিকিত্সা নৃবিজ্ঞানী সাচিকো হরিগুচির বিবিসি কে বলেন,এই কৃত্রিম ম্যাচমেকিংকে ভর্তুকি দেওয়ার চেয়ে সরকারের পক্ষে জন্মহারকে বাড়ানোর ভাল উপায় হচ্ছে,কম বেতন আয় করা যুবক-যুবতীদের বিয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করা।

তিনি আরো বলেন,তারা যদি ডেটিংয়ে আগ্রহী না হয় তবে ম্যাচমেকিং সম্ভবত অকার্যকর হবে। আমরা যদি প্রযুক্তির উপর নির্ভর করতে পারি তবে সাশ্রয়ী মূল্যের কৃত্রিম রোবটগুলি পরিবারের বা শিশু যত্নের দায়িত্ব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আরো কার্যকর হবে।

জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ছিল ২০১৭ সালে। সে সময় জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। তবে জন্মহারের নিম্নগতি চলতে থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ দেশটির জনসংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here