ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় স্বাভাবিক বেনাপোল

0
51
ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় স্বাভাবিক বেনাপোল

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করায় ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হচ্ছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দু’দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত। বর্তমানে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে নতুন মেডিকেল ভিসা ও পুরানো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশিরা ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করছেন।

এছাড়া ভারত থেকেও ইমপ্লোয়মেন্ট ও বিজনেজ ভিসায় প্রতিদিন যাত্রীরা আসছেন বাংলাদেশে। তবে এখনও শুরু হয়নি ট্যুরিষ্ট ভিসায় যাতায়াত। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা না পাওয়ায় বাংলাদেশিরা ছুটছেন ভারতে। বর্তমানে মেডিকেল ভিসায় যাত্রীর সংখ্যা রয়েছে ৯০ শতাংশ। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত সরকার গত ১৩ মার্চ বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। পরবর্তীতে একই নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ হয়েছিল ভারতীয়দেরও বাংলাদেশ যাতায়াত। এতে বিশেষ করে চিকিৎসা আর বাণিজ্যিক ভিসায় যাতায়াতকারীরা বেশি দূর্ভোগে পড়েছিলেন। জানাযায়, বেনাপোল থেকে ভারতের বাণিজ্যিক শহর কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এপথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমনে যাত্রীরা বেশি যাতায়াত করে থাকেন।

চীনে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বাংলাদেশ ও প্রতিবেশি দেশ ভারতে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিরোধ হিসেবে দুই দেশের সরকার নানান ব্যবস্থা গ্রহন করে। এর মধ্যে গত ১৩ মার্চ ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় যাতায়াত বন্ধ হয় বাংলাদেশিদের। বাংলাদেশেও আটকে পড়েন ভারতীয়রা। এতে বিশেষ করে গুরুতর রোগীরা চিকিৎসার জন্য যেতে না পেরে বেকায়দায় পড়েন। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকশানে ছিলেন। পরবর্তীতে ৫ মাস পর প্রথমে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরার সুযোগ হয়। পরে, গত ৩ রা অক্টোবর বাংলাদেশিদের মেডিকেল আর বিজনেস ভিসায় যাতায়াতে সুযোগ দেয় ভারত সরকার।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস থেকে জানাযায়, করোনা ভাইরাসের পূর্বে প্রতিবছর এপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ দেশী-বিদেশী পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। এদের কাছ থেকে ভ্রমনকর বাবদ সরকারের রাজস্ব আসে প্রায় ১০০ কোটির কাছাকাছি। গত ৩ অক্টোবর থেকে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল হওয়ায় গত ১৫ দিনে বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গেছেন ৩৪০৫ জন পাসপোর্ট যাত্রী, ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ১৯২২ জন পাসপোর্ট যাত্রী। পর্যায়ক্রমে নভেম্বর মাসের শুরু থেকে ভারত-বাংলাদেশ পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল বেড়েছে।

১ লা নভেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ভারত হতে বাংলাদেশে এসেছেন ১০৫২ জন, বাংলাদেশ থেকে ভারত গেছেন ১৯৯১ জন। এরমধ্যে বাংলাদেশী ২৫৪৯ জন, ভারতীয় ৪৯৪ জন। গতকাল ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ২২০ জন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ২৬৫ জন পাসপোর্ট যাত্রী। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আসা ভারতগামী বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীরা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে টানা ৭ মাস ভারত যাতায়াত বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। এখন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় সুযোগ পেয়ে চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে ভারতে যাচ্ছেন। তবে মেডিকেল ভিসার মেয়াদ ৩ মাস থেকে ৬ মাসের জন্য দিলেও এ ভিসায় মাত্র একবার ভ্রমনের সুযোগ রয়েছে। এতে কতটুকু প্রয়োজন মিটবে তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন রোগীরা। বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার সুজন সেন জানান, ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতে দুই দেশের যাত্রীদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রয়োজন হচ্ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক মহাসিন খান বলেন, আপাতত মেডিকেল, ষ্টুডেন্ট আর বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশিরা ভারত যাতায়াত করছেন। ভারতীয়রা আসছেন ইমপ্লোয়মেন্ট ভিসায়। এছাড়া কুটনৈতিক ভিসায়ও যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। মেডিকেল ভিসায় যারা যাচ্ছেন তাদেরকে নতুন ভিসা নিতে হচ্ছে। বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে পুরানো ভিসা কার্যকর হচ্ছে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভ্রমনের আগে ৭২ ঘন্টার মধ্যে পরীক্ষা করানো করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here