চালকল মালিকদের একাংশের অসহযোগিতা বাজার চড়া, সৈয়দপুরে লক্ষমাত্রার ৯৯ ভাগ চাল সংগ্রহ

0
84
সৈয়দপুরে বিদ্যুস্পৃষ্টে ও বজ্রপাতে দুই ছাত্রের মৃত্যু

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ চালকল মালিকদের একাংশের অসহযোগিতার কারণে সৈয়দপুরে বোরো মৌসুমে সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। চুক্তির তালিকাভূক্ত হয়েও সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেনি কয়েকজন চালকল মালিক। তবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯৯ ভাগ চাল চাল সংগৃহীত হয়েছে। সরকারি দরের চেয়ে বাজারে ধান-চালের দর বেশী হওয়ায় সংগ্রহ অভিযান বাধাগ্রস্থ হয়েছে বলে এলএসডি কর্তৃপক্ষ জানায় চাল সংগ্রহে অন্যান্য এলাকার চাইতে সৈয়দপুরের অবস্থান অনেক ভাল।

সূত্র জানায়, চলতি বোরো মওসুমে সৈয়দপুরে সরকারিভাবে ২ হাজার ৬৮৩.২৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় খাদ্য বিভাগ। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল ২ হাজার ৬০৫.৭৪০ টন ও আতপ চাল ৭৭.৫৫০ টন। এছাড়া ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন। এসব চাল কেনার জন্য স্থানীয় খাদ্য বিভাগ ২৩ জন মিলারকে চুক্তি করার নির্দেশনা দেয়। এর মধ্যে ৫টি অটোরাইস মিল, ১টি সেমি অটোরাইস মিল ও ১৭টি হাসকিং মিল রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ জন হাসকিং মিলার শর্ত বরখেলাপ করে। এদের মধ্যে ৪ জন মিলার বিডি জমা দিলেও চুক্তিপত্র সম্পাদন করেনি আর অপর দুই মিলার চুক্তিপত্র সম্পাদন করলেও তারা চাল দেয়া থেকে বিরত থাকে। ওইসব মিলারদের চাল দেয়ার বরাদ্দ ছিল ৭৫.৮১০ মেট্রিক টন। তারপরও সৈয়দপুরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯৯ ভাগ চাল সংগৃহীত হয়েছে। তবে ৬ হাসকিং মিল বরাদ্দ চাল সরবরাহ করলে শতভাগ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতো বলে জানায় এলএসডি কর্তৃপক্ষ।

চালকল মালিকদের সূত্র জানায়, সরকারি দরের চাইতে বাজার দর অনেক বেশী হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারা খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করেছে। এতে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০ মে থেকে শুরু হয় সংগ্রহ অভিযান। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩১ আগস্ট। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ওই সময়ে চুক্তি সম্পাদন করা মিলাররা (৬ জন বাদে) তাদেরকে টার্গেট দেয়া সব চালসহ আরও অতিরিক্ত চাল প্রদান করে। ফলে ২ হাজার ৬৮৩.২৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাল সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৬৬৪.৭২০ মেট্রিক টন। ঘাটতি ১৮.৫৭০ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৯.৩০% অর্জিত। এর মধ্যে ২ হাজার ৬০৫.৭৪০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চালের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ৫৮৭.১৭০ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রার ৯৯.২৮% ভাগ। তবে আতপ চাল সংগ্রহ শতভাগ হয়েছে। ওই চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭.৫৫০ মেট্রিক টন।

এদিকে সংগ্রহ অভিযানে খারাপ অবস্থায় ছিল ধান। এবারে কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন ধান নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কৃষকরা তেমন একটা ধান দেয়নি। তাদের কাছে থেকে মাত্র ১৫০ মে.টন ধান সংগ্রহ করা গেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৯.৪১% ভাগ অর্জন।এ ব্যাপারে কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার নির্ধারিত দরের চাইতে বাজার মূল্য অনেক বেশী। তাই ক্ষতি হবে জেনে খাদ্য গুদামে ধান দেইনি। চাল প্রদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আফজাল অটো রাইস মিলের মালিক মো. নওশাদ খান রাজা বলেন, খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তি থাকায় আমরা সব চাল দিয়েছি। তিনি বলেন সরকার নির্ধারিত দরের চাইতে বর্তমানে বাজার দর বেশী। তারপরেও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে জেনেও ব্যবসায়ীক সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চুক্তির সব চাল দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় সৈয়দপুর সরকারি খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফজলুল হকের সাথে। তিনি বলেন মিলাররা ক্ষতির শিকার হয়েও ৬ জন বাদে সবাই চাল দিয়েছে। সব মিলাররা যদি চাল দিত তাহলে চাল সংগ্রহ শতভাগ হতো। তিনি চাল দেয়া সকল মিলারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন তারপরেও চাল সংগ্রহ অভিযানে সারাদেশের চাইতে সৈয়দপুর অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ধান সংগ্রহের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন বাজারে ধানের মূল্য বেশী থাকায় কৃষকরা ধান দেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here