বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, প্রস্তুতি থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
42
‘পরীক্ষা তো হবে না, হয়তো প্রমোশন দিতে হবে’ঃ প্রধানমন্ত্রী

খবর৭১ঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, এবারের বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। এজন্য সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের এক অনির্ধারিত বিশেষ সভায় ভিডিও-কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সভার শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিকের পিতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং বন্যা কবলিত মানুষের সহায়তায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দলীয় জনপ্রতিনিধিদের বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বন্যা কবলিত এলাকায় বন্যার্তদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালনের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

এ সময় তিনি সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। ঈদে সামর্থ্যবান সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, তাই আমাদের আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে। ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী, ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দুই সপ্তাহব্যাপী। প্রাকৃতিক কারণে শ্রাবণ মাসের বন্যা দেশর উত্তরাঞ্চলে শুরু হয় এবং ভাদ্র মাসে তা দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে নেমে যায়। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বরাবরের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী মর্যাদাপূর্ণ ও ভাব-গাম্ভীর্যের সাথে পালনের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা সীমিত পরিসরে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করা হচ্ছে। জাতির পিতা সারাজীবন মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। এ দেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। জাতির পিতার মহান আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেবে এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। সভা শেষে তিনি গণমাধ্যমের কাছে আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনাসমূহ তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান , যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এস. এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম এমপি, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here