সৈয়দপুরে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দূর্ধর্ষ চুরি

0
136
সৈয়দপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে ছয় মাদকসেবীর জেল জরিমানা

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের একই রাতে পাশাপাশি ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দূর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত গভীর রাতে মুষলধারে বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে দোকানগুলোতে ওই চুরি ঘটনায় ঘটায় চোরেরা।

সংঘবদ্ধ চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে গ্রীল ও ছাউনির টিন কেটে ভেতরে ঢুকে মোবাইল ফোনসহ নগদ প্রায় সোয়া তিন লাখ টাকা নিয়ে গেছে।চুরির খবর পেয়ে আজ সোমবার সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা যায়,শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মেসার্স এস এস ট্রেডার্স, জাবেদ ইলেকট্রনিক্স, লাইট হাউজ, আজিজার সাইকেল স্টোর, হাবিবা ফার্মেসী ও সেবা ফার্মেসীর দোকান মালিকরা প্রতিদিনের মতো গতকাল রোববার রাতে তারা যথারীতি দোকানপাট বন্ধ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। রাতে আবার মূষলধারে বৃষ্টিও হচ্ছিল। এ সুযোগে গভীর রাতে চোরেরা ওইসব দোকানগুলোর ভেন্টিলেটার ভেঙ্গে এবং গ্রীল ও ছাউনির টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে চোরের দল দোকানের ক্যাশবাক্স ভেঙ্গে মেসার্স এস এস ট্রেডার্স নামের একটি বাইসাইকেল শো রুমের নগদ ২৫ হাজার টাকা, জাবেদ ইলেকট্রনিক্সের ৩০ হাজার, লাইট হাউজের ১০ হাজার এবং হাবিবা ফার্মেসীর নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৪০ হাজার টাকা মুল্যের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

সকালে দোকান মালিকরা তাদের দোকান খুলতে এসে দেখেন দোকানের ক্যাশবাক্স ভাঙ্গা এবং ছাউনির টিন ও ভেন্টিলেটরের গ্রীল কাটা দেকে দোকান চুরির ঘটনাটি বুঝতে পারেন। চুরি বিষয়ে ওই সড়কের নৈশপ্রহরী মো. রাজু জানায়, রাত ১২ টার পর বৃষ্টি শুরু হয়ে তা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তিনি পাহারারত অবস্থায় প্রতিটি দোকানের তালা কয়েক দফায় টেনে টেনে দেখেন। দোকানের তালা ও সার্টার ঠিক ছিল। পিছনের দিকে উপরে কি হয়েছে তা জানেন না তিনি। আর হয়ত মুষলধারে বৃষ্টির কারণে আওয়াজ পাননি তিনি।

পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, চুরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এদিকে, বাণিজ্যিক শহরে ব্যস্ততম সড়কে একই স্থানে একই রাতে ছয়টি দোকান চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রাতে শহরে এভাবে অভিনব কায়দায় দোকানপাট চুরির ঘটনা ঘটলে আমরা দোকানপাট বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে কিভাবে নিশ্চিতে ঘুমাবো।

উল্লেখ্য সৈয়দপুর শহরে দিনরাত ২৪ ঘন্টা মানুষজনের চলাচল থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে রাতের বেলা মানুষজনের চলাচল অনেক কমে গেছে। এ সুযোগে চোরেরা একেরপর এক চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের শুরু থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত সৈয়দপুর উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here