সড়কে ৪ মাসে ঝরেছে ১৫৫২ প্রাণ

0
9

খবর৭১ঃ দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় অকালে ঝরছে তাজা প্রাণ। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ নিয়ে নানা পদক্ষেপ পরিকল্পনার কথা জানালেও কার্যত কমছে না সড়কে মৃত্যুর মিছিল। লাশের সারি কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতরই হচ্ছে।

এ নিয়ে শনিবার (১১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

যেখানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে দেশে ১ হাজার ৪৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫৫২ জন নিহত ও ৩ হাজার ৩৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে ১৯৫ জন নারী ও ২৬৮ শিশু রয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাতীয় মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ে এ জরিপ প্রকাশ করা হয়েছে। সঙ্গে ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং ৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ হতাহতের পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সারা দেশে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়। এতে ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হন।

ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে ৪০১টি দুর্ঘটনায় ৪১৫ জন নিহত ও ৮৮৪ জন আহত হন। নিহতের মধ্যে ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হন।

আর সবশেষ গত এপ্রিল মাসে দেশে ৩২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে।

এনসিপিএসআরআর-এর পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান ও অন্যতম যে ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছিল সেগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিপিএসআরআর-এর সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে না পারলে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।’

গণপরিবহন খাতে বিরাজমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সংশ্নিষ্ট সব মহলের সোচ্চার হওয়া জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে সড়কের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নৌ ও রেলপথ ব্যবহারের উপরও জোর দেন এনসিপিএসআরআর সাধারণ সম্পাদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here