৫ বছর আগেই রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে স্তন ক্যান্সারের খবর

0
49
৫ বছর আগেই রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে স্তন ক্যান্সারের খবর

খবর৭১ঃ

সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বলে দিতে পারে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটা। গবেষকরা তেমনটাই দাবি করছেন। তারা বলছেন, স্তন ক্যানসারের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ দেখা দেওয়ার পাঁচ বছর আগেই তা জানিয়ে দেওয়া সম্ভব। কাজেই পরীক্ষা করে নারীরা আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যেতে পারবেন। হাতে যথেষ্ট সময় পাওয়ায় চিকিত্‍‌সকও সতর্কতামূলক পরামর্শ দিতে পারেন। এই আগাম জানান জন্যে খুব বেশি পেরেশানি নিতে হবে না। বরং অতি মামুলি রক্ত পরীক্ষাতেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। একবার রক্ত পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলে, ক্যান্সার ভীতি সরিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য যে কেউ-ই মোটামুটি নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

রবিবার গ্রেট ব্রিটেনের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ক্যান্সার কনফারেন্সে স্তন ক্যান্সার নিয়ে এই গবেষণার বিষয়টি সামনে আনে জাতীয় ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউট। টিউমার কোষ থেকে উৎপাদিত পদার্থের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা, রক্ত পরীক্ষায় তা যাচাই করা হয়। এই পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে, সহজেই স্তন ক্যান্সার নিয়ে ভবিষ্যৎ বাণী করা সম্ভব বলে দাবি এনসিআরআইয়ের এই গবেষক দলটির।

৫ বছর আগেই রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে স্তন ক্যান্সারের খবর

ব্রিটেনের নটিংহাম ইউনিভার্সিটির গবেষক দানিয়াহ আলফাত্তানি মনে করেন, এ নিয়ে আরো বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, গবেষণার ফল তাদের জন্য যথেষ্টই উদ্দীপক। কারণ, এখনই আগাম স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা যাচ্ছে। রক্তপরীক্ষা আরো নির্ভুল করাই গবেষকদের পরবর্তী লক্ষ্য।

ক্যান্সার কোষ শরীরে প্রোটিন উত্‍‌পাদন করে, যাকে বলা হয় অ্যান্টিজেন। এই অ্যান্টিজেন শরীরকে অ্যান্টিবডি তৈরিতে চালিত করে। যাকে বলা হচ্ছে, অটো-অ্যান্টিবডিস। গবেষকরা দেখেছেন, এই টিউমার সংশ্লিষ্ট এজেন্টস, টিএএএস ক্যান্সারের ইন্ডিকেটরের কাজ করে। ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই টিউমার-অ্যাসোসিয়েটেড এজেন্টস শনাক্ত করারই উপায় বের করেছেন গবেষকরা। সামান্য রক্ত পরীক্ষা করেই, তা বলে দেওয়া সম্ভব।

এই গবেষণার শুরুতে ব্রেস্ট ক্যান্সার আক্রান্ত ৯০ জন রোগীর রক্তের নমুনা নেন গবেষকরা। একইসঙ্গে স্তন ক্যান্সাের আক্রান্ত নন, এমন আরো ৯০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের পরীক্ষায় ম্যামোগ্রাফি করানো হয়। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ম্যামোগ্রাফির তুলনায় নয়া পদ্ধতি অনেকটাই সহজতর। তাছাড়া খরচও কম। ফলে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষকে খরচের দিক থেকে স্বস্তিও দিতে পারে এই নয়া পরীক্ষা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here