শায়েস্তাগঞ্জ রেলজংশনে কর্মমুখী মানুষের ভিড় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ট্রেনের ছাদে

0
19
শায়েস্তাগঞ্জ রেলজংশনে কর্মমুখী মানুষের ভিড় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ট্রেনের ছাদে

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঈদের ছুটি শেষে এখন কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপন শেষে শুরু হয়েছে আরেক যুদ্ধ, ট্রেন ও বাসে চড়ে কর্মস্থলে ফেরা। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে কর্মমুখী মানুষের ভিড় বেশি। ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে নেই। আছে কালোবাজারি সিন্ডিকেটের হাতে।শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কর্মস্থলে ফিরতে জেলার বিভিন্ন স্থানের মানুষের ঢল নামে এ স্টেশনে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা যায়।সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বিকাল পৌনে ৪টায় স্টেশনে পৌছা মাত্রাই যাত্রীরা দরজা, জানালা দিয়ে লাফিয়ে উঠতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ট্রেনের ভিতরে কোথায় ঠাঁই নেই। যাত্রীরা জানালা বেঁয়ে উঠতে থাকে ছাদে। ট্রেনের ছাদের যাত্রীদের ভরপুর। চট্টগ্রামগামী যাত্রী নজরুল ইসলাম, জানে আলম, সিরাজ খান, পারভেজ আলম বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলেতো ফিরতেই হবে। তাই ভোগান্তির মধ্যেই ফিরছি।আরেক যাত্রী নাজমুন্নাহার। বাড়ি বানিয়াচং উপজেলায়। চাকরি করেন চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায়। ১০ এবং ১৪ বছরের দুই কন্যা সন্তান নিয়ে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছিলেন। রোববার থেকে কাজে যোগ দিতে হবে তাই পাহাড়িকা ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে রেখেছিলন। তারপরও ট্রেনে ভিড় থাকায় সন্তানদের নিয়ে উঠতে পারেননি। আজমিরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আফরোজা আক্তার, রিনি, মরিয়ম খাতুন, পারভিন সুলতানা পাহাড়িকা ট্রেনে যাবেন চট্টগ্রাম। কাজ করেন পোশাক কারখানায়। ঈদে ছুটি শেষে ফিরছেন কর্মস্থলে। ট্রেনের ভিতরে উঠতে না পারায় জানালা বেয়ে উঠেছেন ছাদে।তারা জানান- জীবনেও ট্রেনের ছাদে উঠেননি। আজই প্রথম ট্রেনের ছাদে ছেড়ে চট্টগ্রাম যেতে হবে। ভয় লাগছে, তারপরও যেতে হবে। তাদের মত এমন অনেক নারী-পুরুষ জীবনে প্রথম ট্রেনের ছাদে ছড়ে কর্মস্থলে ফিরছেন।শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের কম্পিউটার বিভাগের ইনচার্জ কাউছার আহমেদ জানান- চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ট্রেনে যাত্রী বেশি হওয়ায় টিকিট বিক্রি বেড়ে গেছে। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের কাছে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে।শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারি স্টেশন মাষ্টার গৌর প্রসাদ দাস পলাশ জানান- ঈদের ছুটি শেষে যাত্রীরা ফিরছেন কর্মস্থলে। তবে চট্টগ্রামগামী ট্রেনেই যাত্রীর ভিড় বেশি হচ্ছে। পাহাড়িকা ট্রেন শনিবার সপ্তাহিক ছুটি থাকায় শুক্রবারে যাত্রীদের ভিড় বেশি। চলতি সপ্তাহের পরে হয়তো এরকম ভিড় আর থাকবে। সব যাত্রী যাতে ট্রেনে উঠতে পারে এজন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০-১৫ মিনিট বেশি সময় ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here