বেনাপোলে সোনামনি নামে এক কিশোরীর আত্মহত্যা

0
143
বেনাপোলে লোকলজ্জার ভয়ে সোনামনি নামে এক কিশোরীর আত্মহত্যা

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : বেনাপোলে লোকলজ্জার ভয়ে সোনামনি (১৬) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে গণধর্ষনের সিকার হয়ে ঘরে ফিরলে কথিত ধর্ষক রাকিবের মা তাকে মারধর করতে গেলে লোকলজ্জার ভয়ে সুযোগ বুঝে সোনামনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত সোনামনি যশোর জেলার মনিরামপুর থানার মাদরা গ্রামের ময়নুদ্দিনের মেয়ে ও বেনাপোলের বড় আঁচড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া মর্জিনার বোন। সে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোলে বোনের বাসাতেই থাকত।

নিহতের বড় বোন মর্জিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার বিকেলে পাশের বাড়ির শহিদের ছেলে ভরসা(২০), রফিকের ছেলে রাকিব(২১) ও সাগরের ছেলে সাব্বির(২২) তার বোনকে ফুসলিয়ে শহিদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে অন্যরা কেউ না থাকায় সুযোগ পেয়ে ওরা পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে সে তার বোনকে বকাঝকা করলে লোকলজ্জার ভয়ে সুযোগ বুঝে সোনামনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আতœহত্যা করে।

স্থানীয়রা বলেন, শুক্রবার বেলা ৪ টার দিকে সোনামণি রাকিবের ডাকে যুথি নামের একটি মেয়েকে সাথে নিয়ে তার চাচাতো ভাই ভরসাদের বাড়িতে যায়। এসময় ওই বাড়িতে ভরসার বাবা মা কেউ ছিল না। সোনামণি ভরসাদের ঘরে উঠার কিছু সময় পর জুথি নামের মেয়েটি ওই বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর টুনুর বড় বোন মর্জিনা বাড়িতে এসে তার বোনকে না পেয়ে পাগলের মত প্রায় ৪০ মিনিট খোজাখুজি করে। পরে তার বোন সোনামণি বাড়িতে আসলে কোথায় ছিল তা জানতে চাইলে সে বার বার মিথ্যা কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে ধর্ষক রাকিবের মা রুপালী বেগম এসে সোনামণিকে মারতে যায়। বলে, সে তার ছেলে ও ভাসুরের ছেলে ভরসার সাথে তার ভাসুর শহিদের বাড়িতে সময় কাটিয়েছে। যা গ্রামবাসী কানাঘোষা করতে থাকলে মেয়েটি লোকলজ্জার ভয়ে রাত ৮ টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আতœহত্যা করে।

প্রতিবেশি আসমা খাতুন বলেন, নিহত সোনামণির বড় বোন মর্জিনা একটি হোটেলে রান্নার কাজ করে আর তার শিশু সন্তানকে রাখত ছোট বোন সোনামণি। একসময়ে ওই বাচ্চার কান্নার চিৎকারে দৌড়ে এসে জ্বানালা দিয়ে দেখে টুনু ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। তখন ঘরের জ্বানালা দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে বেনাপোল রজনী ক্লিনিক, পরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক রাকিবের মা রুপালী বেগমের নিকট জানতে চাইলে তিনি তাকে গালাগালি করেনি বলে জানায়। তবে, সোনামণি ও তার ছেলেসহ আরো দুইজন তার ভাসুর শহীদের ঘরে ছিল বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্য(ওসি) মামুন খান বলেন, খবর পেয়ে বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রাম থেকে এক তরুণীর গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি মেয়েটি গলায় ওড়না জড়িয়ে আতœহত্যা করেছে। লোকমুখে ধর্ষণের কথা শুনেছি, তবে সে ধর্ষণের সিকার হয়েছে কিনা তা এখনি বলা সম্ভব নয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে জানাযাবে। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here